বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতাশ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন অনুজিত কুমার মন্ডল  কালিগঞ্জে জমি নিয়ে বি রো ধ – মা ও ছেলেকে পি টি য়ে জ খ ম করেছে প্র তি প ক্ষ রা লেখা পড়া মেধার বিকাশ ঘটায় আর খেলা-ধূলা শরীর ও মনকে সুস্থ্য রাখে-প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল আয়েনউদ্দীন মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদে দোয়া অনুষ্ঠিত দেবহাটার সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা দেবহাটায় এমআর ক্যাম্পেইন উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে এ্যাডভোকেসী সভা সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ কর্মসূচি তালায় শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধ টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দেশ টাইমর্স’ নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ হাফিজুল ইসলাম’র জন্মদিনে শুভেচ্ছা ধূলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি.বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, নবীনবরণ ও শিক্ষক সংবর্ধনা 

বরিশালের শিল্পায়নের প্রধান বাঁধা বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন

✍️কে এম সাইফুর রহমান📝নিজস্ব প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও বরিশালে এখন শিল্পায়নের বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন।

যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও বরিশালে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট প্রাচীন যুগ থেকেই ছিলো। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন। শহরের কিছু রিক্সা শ্রমিক, স্থানীয় শিল্প কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে কথায় কথায় শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। শিল্প মালিকেরা তাদের কাছে অসহায়। অনেকটা জিম্মি ও বটে। মনীষা চক্রবর্তী নামে এক বামপন্থী নারী নেত্রী এদের মদদ দিয়ে আসছেন।

শহরের ছোট বড় সকল মিলকারখানায় পান থেকে চুন খসলেই তিনি এসব শ্রমিকদের নিয়ে এসে মিলে তালা লাগিয়ে দেন, মালিকদের জিম্মি করেন এবং উৎপাদন বন্ধ রাখেন। শ্রমিকরাও এই সুযোগে তাদের যৌক্তিক অযৌক্তিক সকল ধরনের দাবি আদায় করে নেন।

এদের এই উৎপাতের কারণে বরিশালের শতাধিক মিলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতেও বরিশালে বড় কোন মিল কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হাতেগোনা যে কয়টি হয়েছে তার মধ্যে বেঙ্গল বিস্কুট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড, খানসন্স টেক্সটাইল লিমিটেড, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং অপসোনিন ফার্মা অন্যতম।

শ্রমিকদের এই অপতৎপরতার কারণে বেঙ্গল বিস্কুট ফ্যাক্টরি ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড বন্ধ হবার পথে। শ্রমিকদের উৎপাতের কারণে অপসোনিন ফার্মা এখন বরিশাল থেকে তাদের ফ্যাক্টরি ঢাকায় সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই অপসোনিন ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাদের একটি কারখানা সরিয়ে নিয়েছেন। সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে মনীষা চক্রবর্তী ও তার শ্রমিকদের কারণে বহুবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছিলো। এতে জেলার প্রায় ৫,০০০ শ্রমিক তাদের চাকুরী হারিয়েছেন। আরো আড়াইহাজার চাকুরি হারানোর পথে। সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড এর মালিক কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া হওয়ার পথে। একে তো দেশীয় সুতার চাহিদা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমনি তারা বাজার হারিয়েছেন অন্যদিকে গ্যাস বিদ্যুৎ না থাকায় অতি উচ্চ মূল্যে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কারখানা টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তাদের এই মরার ওপর খরার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক আন্দোলন। মিলের শ্রমিকরা বহিরাগতদের সঙ্গে মিলে মনীষা চক্রবর্তীর কুপরামর্শে কারখানায় তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।সম্প্রতি মিলের দুইজন শ্রমিক জঘন্যতম অপরাধ করায় তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা হয় কিন্তু মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শহরের কিছু বহিরাগত শ্রমিক কারখানায় তালা লাগিয়ে দেয়। তারা মিলের দুইজন কর্মকর্তাকে পাঁচদিন ধরে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। খাবারের অভাবে উক্ত কর্মকর্তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। মালিক কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিনিধিকে জানান তারা আমার ফ্যাক্টরি জ্বালিয়ে দিক তবুও আমি অন্যায় আবদারের কাছে আর নতি স্বীকার করবো না। গত ২৫-৩০ বছর তাদের বহু অন্যায় আবদার সহ্য করেছি, আর না। আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কিছুই পাইনি বরং নিঃস্ব হয়ে গেছি।

উল্লেখ্য বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলির বেশির ভাগই এখন প্রায় বন্ধ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায় মনীষা চক্রবর্তী ও তার বাহিনীর হাতে গোটা বরিশালের শিল্প কারখানা বর্তমানে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মির্জা মোজাম্মেল হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আমরা এখন মিল কারখানা করতে ভয় পাচ্ছি। তাই বিনিয়োগ বরিশালে না করে ঢাকায় বা অন্যত্র করছি।

যোগাযোগ করা হলে বরিশাল জেলা সমিতির সভাপতি ও বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডক্টর এনায়েত করিম বলেন, শ্রমিক অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিশ্ব ব্যাংকসহ বহু দাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, মনীষা চক্রবর্তী ভারতীয় আদিপত্যবাদী মদদ দাতা ও গুপ্তচর। তাকে ব্যবহার করে ভারত দক্ষিন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য দমিয়ে রাখতে চায় যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগোতে না পারে। গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, মনীষা চক্রবর্তীর ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মনীষা চক্রবর্তী প্রতিবারই জাতীয় সংসদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামানাত হারান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনীষা চক্রবর্তীকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রুবেল বলেন, এসব অপশক্তির কারণেই বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোতে কোন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। তিনি অবিলম্বে সরকারের কাছে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!