সাতক্ষীরায় হানি ট্রাপ চ ক্রে র মূ ল হো তা মেম্বর কাদের- রিমা গ্রে ফ তা র
✍️আক্তারুল ইসলাম📝নিজস্ব প্রতিবেদক✅
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
৫২
বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা হানি- ট্রাপ চক্রের মূল হোতারা পুলিশের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে। ফেসবুক মেসেঞ্জার ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তারা রাজনীতিবিদ, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে লক্ষ, লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। নারী সদস্যদের দিয়ে প্রেম, বন্ধুত্বের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত ছবি ভিডিও সংগ্রহের পর ব্ল্যাকমেইল চাঁদাবাজি, অর্থ আদায় করাই ছিল এ চক্রের প্রধান কৌশল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ‘২৬) সাতক্ষীরার সদর থানার একে বারে নাকের ডগায় মনজিতপুর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ির মধু চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে একাধিক চাঁদাবাজি, পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের ও তার তালাক দেওয়া স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমাকে গ্রেফতার করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক পিংকু ঢালীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
রাজশাহী জেলার পুটিয়া থানার ধাদাশ গ্রামের ওসমান আলীর পুত্র মাল্টি হেলথ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টটিভ হান্নান সরকারের গত ১৩/৯/২০২৫ ইং তারিখে দায়ের করা সদর থানার পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির ১৯ নং ( জিআর ৪৮১/২৫) মামলার পলাতক আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ থানার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের এলাহি বক্স গাজী পুত্র একাধিক চাঁদাবাজি, পর্নোগ্রাফি ও প্রতারণা মামলার আসামি আব্দুল কাদের ও তার তালাক দেওয়া স্ত্রী শ্যামনগর থানার গাবুরা ইউনিয়নের খলিশা বুলিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের কন্যা হানি ট্রাপ চক্রের মূল হোতা মক্ষি রানী শারমিন আক্তার রিমা। মাল্টি হেলথ কোম্পানির ঔষধ বিক্রয় প্রতিনিধি রাজশাহীর, পুটিয়া থানার ধাঁদাশ গ্রামের ওসমান আলীর পুত্র হান্নান সরকার পাটকেলঘাটা থানায় কর্মরত অবস্থায় এক বন্ধুর মাধ্যমে মক্ষি রানী শারমিন আক্তার রিমার সঙ্গে পরিচয় হয়। ফোনে দেখা করার কথা বলে সাতক্ষীরা কাটিয়া অবস্থিত ডাক্তার পিয়ালের ভাড়া বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই চক্রের মূল হোতা তার স্বামী আব্দুল কাদের, মরজিয়া খাতুন, আনোয়ার হোসেন এবং কথিত সাংবাদিক ফজর আলী মিলে তাকে নগ্ন বিবস্ত্র করে কল গার্ল মর্জিয়া খাতুনের সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৬ ঘন্টা আটকে রেখে নন জুডিশিয়াল সাদা কাগজে সই সহ নগদ ৭০ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। উক্ত ঘটনায় হান্নান সরকারের দায়ের করা মামলায় এই চক্র বাসা পরিবর্তন করে পলাতক ছিল। এই হানি ট্রাপ চক্রটির মূল হোতা ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের ও তার মুক্ষিরানী শারমিন আক্তার রিমা এর আগেও সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজারের এক কসমেটিক্স ব্যবসায়ীকে বাকি টাকা দেওয়ার নাম করে কাঠিয়া আশরাফের ভাড়া বাসায় গত ১/৪/২৫ ইং তারিখে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানো মাত্র এই চক্র শারমিন আক্তার রিমাকে জড়িয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নগদ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এবং ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। রাত ১০ টায় বেধড়ক পিটিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে গত ৫/৪/২৫ ইং তারিখে রিপনুজ্জামান নামে ঐ ব্যবসায়ী সদর থানায় এই চক্রটির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৪। উক্ত মামলায় চক্রটি র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে যায়। দীর্ঘদিন জেলা থেকে বেরিয়ে আবারো ভাষা পরিবর্তন করে সাতক্ষীরা সদর থানার একেবারে নাকের ডগায় ঈদগাহ ময়দানের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে পলাতক থাকা অবস্থায় তাদের এই অবৈধ কার্যক্রম চালাতে থাকে। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল মক্ষ্মী রানী শারমিন আক্তার রিমার ছেড়ে দেওয়া স্বামী ইউপি সদস্য আবদুল কাদের নগ্ন অশ্লীল ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নাম করে এক সাংবাদিককে সাতক্ষীরায় ডেকে এনে ওই চক্রটি সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে একটি হোটেলে নিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে লাইভ সম্প্রচার করার ভয় দেখিয়ে ৫০,০০০ টাকা দাবি করে। দাবি কৃত টাকা না দেওয়ায় লাইভ সম্প্রচার করা সহ কাছে থাকা নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে উল্টো ৯৯৯ ফোন করিয়ে পুলিশে দেয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় ২০২৩ সালে ৫ এপ্রিল ওই সাংবাদিক হেনেস্তা ঘটনায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় মক্ষীরানী শারমিন আক্তার রিমা সহ ইউপি সদস্য আবদুল কাদের দীর্ঘদিন যাবত জেল হাজতবাস করে। আটককৃত দু,জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।