
করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে শনিবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফা লকডাউন। ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্রণ রাখতে প্রশাসন আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৮জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে করোনা সনাক্তর হার ৩৬ শতাংশ। শনিবার সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি কাশি জ্বর ডায়রিয়ার মতো করোনার নানা উপসর্গ। তবে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে করোনার উর্ধমুখী গতি নিয়ন্রনে দ্বিতীয় দফায় সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের প্রথম দিন শনিবার সকাল থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে চেকপোষ্ট ও ব্যারিকেট বসিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে বাঁধা দিচ্ছে পুলিশ। তবে জরুরি প্রয়োজন মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে ছাড় রয়েছে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের জন্য। লকডাউন ভালভাবে মানতে বাধ্য করতে পুলিশ দিবারাত্র কাজ করে যাচ্ছে। কাঁচা বাজার ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।
এদিকে ৫ জুন শুরু হওয়া প্রথম দফার সপ্তাহব্যাপী লকডাউন শুক্রবার শেষ হয়েছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হুসাইন সাফায়ত জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত জেলায় ২৩২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৪৯ জন। বর্তমান আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৮৩ জন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন ও সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৮জন। প্রাতিষ্ঠিানিক কোয়ারেন্টাইনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬১৪ জন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাসিং সুপারভাইজার অপর্ণা রানী পাল জানান, এখানে ১৬৫ জন নার্সের বিপরীতে রয়েছে ১৫০ জন। এদের মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় রয়েছেন ৯৫ জন। যার মধ্যে নয়জন করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। নার্স কম থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ কুদরত ই খুদা জানান, এখানে ৫৮জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিষেবা দিচ্ছেন ৩১ জন। তাদের মধ্যে চারজন অসুস্থ। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৮৭ বেড থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ বেড করা হয়। তাতেও সংকুলন না হওয়ায় শনিবার থেকে আরো ১৫টি বেড বাড়ানো হয়েছে।