
গোপালগঞ্জে উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির পদে একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে না রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর। একই ব্যক্তি বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় সে তার ওপরে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে অনেক সময় ব্যর্থ হন। এতে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সেই ব্যক্তি যে কোনো একটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করবেন এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি। জেলার সকল মাদ্রাসাগুলোতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে সেই সকল মাদ্রাসায় নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন শিক্ষার্থী যেন জঙ্গি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ কথা বলেন, এছাড়াও গোপালগঞ্জকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকান্ডে তিনি সহ কমিটির সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেন। মাদক নির্মূলে তিনি সহ গোপালগঞ্জের অন্য দুইজন সংসদ সদস্যগণ যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া গোপালগঞ্জ পৌরসভায় অটো রিক্সা, মাহেন্দ্রা, সিএনজি সহ থ্রী-হুইলারের চালকদের নিকট থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে পৌর পার্কিং না নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর মৌজায় জরিপের কাজ সুশৃংখল ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষ করে মৌলভীপাড়া সহ অত্র এলাকায় ভূমি জরিপ নিয়ে যেন কোন বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়াও তেল সংকট নিরসনে তিনি শহরের মান্দারতলায় অবস্থিত সাময়িক তেল সরবরাহ বন্ধ থাকা নিগি পেট্রোল পাম্পে পুনরায় তেল সরবরাহের জন্য জেলা প্রশাসন সহ ডিপোতে কথা বলেন। এছাড়াও তিনি শহরের বেদগ্রামে অবস্থিত মিতা পেট্রোল পাম্প সহ অন্যান্য পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় এমপি আরো বলেন, যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে আমি তাদেও এমপি আর যারা ভোট দেয়নি তাদেরও এমপি। সকলকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রোববার (১২ এপ্রিল ‘২৬) বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ স্বচ্ছতা’য় আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসির এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। সভার শুরুতে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশার বিষয়ে তিনি সভায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন। এছাড়াও মুক্ত আলোচনায় তেল সংকট মোকাবেলায় তিনি অচিরেই মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা আসতে পারেন বলে সকলকে জানান। এছাড়াও গোপালগঞ্জের সম্মানিত ০৩ জন সংসদ সদস্যের অক্লান্ত চেষ্টায় অচিরেই ঢাকা গোপালগঞ্জ ট্রেন চলাচল শুরু হতে চলেছে বলে জানান। এসময় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল মজুদ রয়েছে, কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এছাড়াও বাজার মনিটরিং করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাননীয় উপদেষ্টা মণ্ডলীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে সকলের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হবেন বলে জানান।
মুক্ত আলোচনা সভায় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের বলেন, ঘোনাপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার পথে সড়ক সংলগ্ন একাধিক নির্মানাধীন দোকানগুলো বিধি মোতাবেক ব্যক্তি পর্যায়ে ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা নিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে।
এছাড়াও তিনি রাতে ঘোনাপাড়া রেলস্টেশনে আগত যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন সেদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মওদুদ হোসেন রিন্টু আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় বলেন, অফিস টাইমে শহর এলাকায় এতো বিপুল সংখ্যক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থাকায় প্রায়শই যানজট লেগে থাকে। তা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষুদ্র বৈধ ব্যবসায়ীদের মাঝে পূর্বের ন্যায় সরকারি মূল্যে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন সরবরাহ করে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে সকল শ্রেণি- পেশার মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না বলে মত প্রকাশ করেন। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি মহাসড়ক সংলগ্ন হাট-বাজার গুলোতে যত্রতত্র অটোরিক্সা, ভ্যান, মাহিন্দ্রা না রাখার জোর দাবি জানান।
গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর এস এম রেজাউল করিম মুক্ত আলোচনায় গোপালগঞ্জ শহরে চলচলরত অটোরিক্সা, অটো ভ্যান, মাহেন্দ্র ও সিএনজি থেকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে পৌর পার্কিং চার্জ না নেওয়ার অনুরোধ জানান।
জেলা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ ঘোষেরচর মৌজায় অতি সম্প্রতি জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। উক্ত জরিপে সার্ভেয়ার বা আমীনদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীদেরকে সংযুক্ত করলে ভালো হয়। এতে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা নিরূপণ হবে। তেমনি একজনের জমি অন্যজন অন্যায়ভাবে জরিপ করাতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সভায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির দারা শহরের যানজট নিরসনে মধুমতি লেকপাড় সংলগ্ন সড়ক থেকে অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার অপসারণের দাবি জানান, অতিরিক্ত স্পিড ব্রেকার থাকায় ওই সড়ক কেউ ব্যবহার করতে চান না বলে জানান।
প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি বি এম জুবায়ের বলেন, শহরের লেকপার দিয়ে মানিকদাহ পর্যন্ত রাস্তায় স্পিড ব্রেকারগুলো স্থানীয় জনসাধারণ ও স্কুল-কলেজ ও মসজিদ বিবেচনায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দেওয়া হয়েছে। সড়ক থেকে এগুলো অপসারণ যথাযথ হবে না বলেও জানান তিনি। এছাড়াও জেলা সিভিল সার্জন এর নিকট তিনি জানতে চান বর্তমান জেলা ব্যাপী হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা এবং তাদের বর্তমান অবস্থা। এবং প্রতিকারের কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে।
এ সময় গোপালগঞ্জ জেল সুপার শাহ আলম জানান জেলখানায় একজন বন্দী তার শিশুসন্তান নিয়ে রয়েছেন সেও কি হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে গৃহীত কর্মসূচির আওতায় আসবেন কি না?
প্রতি উত্তরে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আবু সাঈদ মোঃ ফারুক মুক্ত আলোচনায় তার বক্তব্যে বলেন, জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এটা নিয়ে ঘাবড়ানোর তেমন কিছুই নেই। অচিরেই হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। কারাগারে মায়ের সাথে বন্দী শিশুকেও টিকার আওতায় আনা হবে।
মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমান বলেন, ক্রেতা সাধারণের অভিযোগ রয়েছে বাজারে ষাঁড় গরুর গোশত ৭৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছে। কিন্তু ষাঁড় গরুর গোশত’র বদলে অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যা ও রোগাক্রান্ত গাভী জবাই করে তা একই দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ প্রকারভেদে দামেও কম নেওয়া হচ্ছে না। ক্রেতা সাধারণদের সাথে রীতিমতো অন্যায় করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং এর দাবি জানানো হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান তার বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলা পরিষদের তেমন কোন আয় নেই। মূলত জেলা পরিষদের সম্পদ থেকেই যা আয় হয় আর মন্ত্রণালয় থেকে কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয় এই নিয়েই জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গোপালগঞ্জের জেলা পরিষদের যে সকল সম্পদ রয়েছে তা বিভিন্ন অসাধু চক্র দখল করে রেখেছে। এগুলো উদ্ধার করে আয় বৃদ্ধি করে গোপালগঞ্জকে একটি মডেল জেলায় রুপন তোর কর্তৃক তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় গোগন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০,২০৭ পিস ইয়াবা, ২ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪,২৬,৮০০/ টাকা সহ শেখ শহিদুল ইসলাম আকাশ (৩৮) নামের এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে রোববার (১২ এপ্রিল) গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ী শেখ শহিদুল ইসলাম আকাশ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের পশ্চিম রাতইল গ্রামের বাসিন্দা মৃত শেখ মোহাম্মদ আলী ও আসমা বেগমের ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত উক্ত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় মাদক মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, গত ১০ মার্চ ২০২৬ হতে ১২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মাদক মামলা সহ গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ১২৪ জন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এগুলো সম্ভব হয়েছে গোপালগঞ্জের মাননীয় ৩ জন সংসদ সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায়। সাধারণত পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন কোন মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক সেবনকারীকে আটক করে, তখন তাদের ছাড়ানোর জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তদবির আসে। কিন্তু গত মার্চ মাসের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গোপালগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এবং মাদকের জিরো টলারেন্স নীতিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গ্রেপ্তারকৃত ১২৪ জনের মধ্যে নিয়মিত মাদক মামলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী ৫২ জন, অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী ৭২ জন। এছাড়া দুইটি দস্যুতা মামলায় আসামী ০৪ জন, তার মধ্যে ০১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ০১টি ইজিবাইক যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ও ১০ মত পেঁয়াজ যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫ হাজার টাকা সহ মোর ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে। একটি খুনের মামলায় ০৪ জন আসামীর মধ্যে ০৪ জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার পরবর্তী কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় গ্রেপ্তারকৃত ০১জন আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। একটি অস্ত্র মলায় ০১জন আসামীকে একটি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন সহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে ০৪ রাউন্ড গুলি ছিলো। এছাড়াও একটি বিস্ফোরক মামলায় আসামীর ০১জন। আলামত সহ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ জেলায় প্রায় ১৪/১৫ লক্ষ লোকের বসবাস। আর আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১০০০/১২০০। জেলার সকলেই খারাপ নন। সমাজের ৫% মানুষও যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে তাহলে এ জেলার সকল ধরনের অপরাধ মাত্রাতিরিক্ত হারে কমে যাবে। আর কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভার শুরুতে গত মাসে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্পর্কে সংক্ষেপে তুলে ধরেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিহা তানজিন।
তার অনবদ্য সঞ্চালনায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ মামুনুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ গোবিন্দ চন্দ্র সরদার, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ জীবিতেষ বিশ্বাস, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ জুলফিকার আলী, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহিরুল আলম, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৌশিক আহমেদ, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিন মিয়া, মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার আহমেদ, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অঃ দাঃ) লাখসানা লাকী, গোপালগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র সদস্য, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌশুলী অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম, জেলা বিএনপির সদস্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেনিন, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল কবির দারা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন হীরা সহ জেলা আইন- শৃঙ্খলা কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।