জ্ঞান অর্জনের পথে বাঁধা হওয়ার কথা নয় কাঁদা আর পানি। অথচ বৃষ্টি নামলেই সেই পানি আর কাঁদাই যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঁঠারোমাইল বাজার সংলগ্ন রহমানিয়া কওমি মাদ্রাসা ও হেফজখানার দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর। বই-খাতা হাতে প্রতিদিন কাঁদা ও নোংরা পানি মাড়িয়ে মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের। এতে প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে বই-খাতা, ভিজে যাচ্ছে পোশাক। ফলে শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে অভিভাবকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগ্রাম এলাকার বাসিন্দা শাহীদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০২৪ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১৫ শতক জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মোট নয় কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ছাত্রীদের জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা ও সুরক্ষিত কক্ষ।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হেফজ শিক্ষা গ্রহণ করছে এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক কিশোর-কিশোরী।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভবনটি তুলনামূলক উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও, ভবনের সামনের মাঠ ও প্রধান প্রবেশ সড়কটি বেশ নিচু। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি ও কাঁদা জমে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের এই কাঁদা-পানি মাড়িয়েই ক্লাসে পৌঁছাতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টি হলে পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে অনেকেই বই-খাতাসহ পড়ে যেতে যায়। জামা কাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। তবুও পড়াশোনা বন্ধ না করে কষ্ট করেই তারা প্রতিদিন মাদ্রাসায় আসে।
সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে অভিভাবকেরা জানান, বৃষ্টির দিনে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক সময় শিশুদের হাত ধরে নোংরা পানি পার করে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে হয়। তারা দ্রুত মাদ্রাসা মাঠ ও প্রবেশ সড়কটি উঁচু করার দাবি জানান।
মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে এই চরম জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না, আবার কেউ কেউ বৃষ্টির দিনে আসতেই পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক শাহীদুল ইসলাম বলেন, “সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে ১৫ শতক জমির ওপর নয় কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হলেও মাঠ ও সংযোগ সড়ক উঁচু করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ বর্তমানে আমাদের নেই। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাদ্রাসায় চলাচলের রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করে তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই জরুরি সড়কটি নির্মাণে সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করেন, মাদ্রাসার মাঠ ও মূল সড়কটি মাটি বা বালু দিয়ে উঁচু করা হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, আশপাশের মানুষেরও চলাচলের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর।