
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্প স্থাপন নিয়ে হয়রানি ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের শিকার হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন এক কৃষক। উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত নাজিম গাজীর ছেলে মো. রুহুল আমিন গাজী এই অভিযোগ করেন। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বললেন দেরীতে আবেদন করায় আমলে নেওয়া হয়নি। তবে পুনঃ আবেদন করলে দেখা যাবে।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, মো. রুহুল আমিন গাজী নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তার জমিতে সেচ পাম্প স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় ও স্থানীয় কৃষি অফিসের ভুল বা মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে তার সেচ পাম্পটির অনুমোদন আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী কৃষক জানান, অপর পক্ষের লোকজন পূর্ব থেকেই তাকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তিনি বিধি মোতাবেক দূরত্ব বজায় রেখে সঠিক স্থানে বোরিং করলেও একটি কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার আবেদনটি বাতিলের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত প্রতিকার চান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। কৃষি অফিসে গেলে সেখানকার এক কর্মকর্তা তাকে অন্য একটি জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর দিতে বললেও পরবর্তীতে তার সেচ পাম্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়নি, ফলে তিনি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক মো. রুহুল আমিন গাজী বলেন গত ২০ বছর ধরে আমি ধান চাষ করে আসছি। এই এলাকায় আমি প্রথম স্যালো মেশিন বসিয়ে ধানচাষ শুরু করি। এরপরে বিদ্যুৎ আসলে আমি প্রথম মোটরে পানি তুলি এরপরে আরো অনেকে শেষ পাম দিয়ে পানি উত্তোলন করে ধান চাষ করে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কৃষি উপ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমানের নির্দেশনা লেয়ার এবং লেয়ারের দূরত্ব বজায় রেখে আমি পাইপ বসাই। কিন্তু তিনি আমার শেষ পাম্পের অনুমোদনের বিষয়টি ইউনোদয়ের টেবিলের না তুলে সম্পূর্ণ অনিয়ম করে অন্যদের অসম্পূর্ণ আবেদনের বৈধতা দিয়ে আমাকে দুই দুইটি লেয়ার কাঞ্চেল করেছে যেখানে আমি প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমি যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে তার সেচ পাম্পটি স্থাপনের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে এবং ভোগান্তি নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ফরিদপুর গ্রামের ধান চাষী নুরুল ইসলাম বলেন রুহুল আমিন গাজি আরো ২০ বছর আগে সবার আগে স্যালো মেশিন বসিয়েছে আমরা সেখান থেকে ধান চাষ করে যাচ্ছি। এই সময়ে সম্পূর্ণ অনিয়ম করে রুহুল আমিন গাজীর সেচ পাম্প বসাতে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আলিম আল রাজি তাপস বলেন সম্পূর্ণ অনিয়ন করে রুহুল আমিন গাজীর লেয়ার বাদ দিয়ে অন্যকে লেয়ান দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম বন্ধ করে অতি দ্রুত রুহুল আমিন গাজীর লেয়ার বসানোর অনুমোদন দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন রুহুল আমিন সাহেব সেচ পাম্পের চন্য আবেদন করেছেন দেরীতে। তাছাড়া উপজেলা মিটিংয়ে তার আবেদন গৃহীত হয়নি। তারপরেও আবার আবেদন করলে দেখা যাবে, আমাকে নিয়ে অহেতুক অভিযোগ করা হচ্ছে।