
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া মৌজায় মানসিকভাবে অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তির প্রায় ৪ বিঘা জমি গোপনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার সবাই জানে আসাদুজ্জামান মিঠু একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি।
জমির মালিক আসাদুজ্জামান মিঠু নিজের সম্পত্তি সম্পর্কে যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতায় না থাকলেও তার ছোট ভাই আরিফুজ্জামান লিটু এবং জমি কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত দালাল আজিজুল ইসলাম প্যান্টলের যোগসাজশের মাধ্যমে এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখিত ৪ বিঘা জমি আরিফুজ্জামান এবং জমির মধ্যস্থতাকারী আজিজুল প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিক্রির গোপন চুক্তি করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে আজিজুল ইসলাম প্যান্টলের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং আরিফুজ্জামানের জন্য ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। প্রবাসে থাকা আলতাপ ও আবুল হোসেনকে ক্রেতা হিসেবে দেখিয়ে বায়নাপত্র সম্পন্ন করার কথাও জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগীরা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির জমি বিক্রি করলেও আইনে টিকবে না, এটা বিক্রি করার জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে।
সরেজমিনে গিয়ে যানা যায়, জমিটি আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া মৌজায়। সংশ্লিষ্ট জমির রেকর্ডে পূর্ব জেএল ২৬ নম্বর, বর্তমান জেএল ০৯ নম্বর এবং এসএ ২৪২ নম্বর খতিয়ানের উল্লেখ রয়েছে।
বাকড়া গ্রামের মরহুম অহিদুজ্জামানের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান মিঠু ও আরিফুজ্জামান লিটু। তাদের মায়ের সম্পত্তি থেকে আরিফুজ্জামান লিটু প্রায় ৪ বিঘা জমি পেয়েছেন এবং ওই জমি ইতোমধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া মিঠুর বোনের জমি আজিজুল ইসলাম অতি গোপনে কম দামে কিনে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের মামা সাগর হোসেন বলেন, যেটা পাগল, সে তো পাগলই। ও তো কিছুই বোঝে না। তবে ছোটটা খুব চালাক ও সেয়ানা হয়ে গেছে। খারাপ লোকজনের সঙ্গে থাকে। আমাদের কথা শোনে না।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রবাসী ক্রেতা পাওয়ার পর আজিজুল ইসলাম প্যান্টল ও আরিফুজ্জামান লিটু মিলে আসাদুজ্জামান মিঠুর জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। যা তাদের পরিবারের আর কেউ জানেনা। আর সকল দুই নাম্বারী কাজের মূলহোতা হলো আজিজুল ইসলাম। যার সকল তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে আছে । স্থানীয়ভাবে এই প্যান্টলের বিরুদ্ধে আরো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছরে তিনি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। কিন্তু কিভাবে হয়েছেন মানুষের কাছে প্রশ্ন বোধক হয়ে দাড়িয়েছেন।
অভিযোগের জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান লিটু বলেন, আমার জমি বিক্রি করছি। আপনার কি? এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অন্যদিকে আজিজুল ইসলাম প্যান্টল বলেন, আরিফুজ্জামান লিটু তার জমি বিক্রি করতে চাইলে আমি শুধু ক্রেতা ঠিক করে দিয়েছি।
তবে তার বিরুদ্ধে গত দুই বছরে ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমি কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।