
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের আব্দুল আলিম কর্তৃক হিংসার বশবর্তী হয়ে তার সাবেক স্ত্রী পারভীন সুলতানা ও তার বাবার পরিবারের সদস্যদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিভিন্ন ধরনের অপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট ‘২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব শিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পারভীন সুলতানার বাবা সদর উপজেলার চেলারডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আবু তালেব সরদারের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
লিখি বক্তব্যে তিনি বলেন, দেবহাটা উপজেলার কোড়া গ্রামের মীর মোরশেদ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল আলিমের সাথে গত ২০২৪ সালের ৩১ মে আমার মেয়ে মোছাঃ পারভীন সুলতানার ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে তারা আমার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের
৯ আগষ্ট আমার মেয়েকে তার শ্বাশুড়ি, শ্বশুর এবং জামাই মিলে ব্যাপক মারধর করে গুরুত্বর আহত করে। আমি খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে সুস্থ্য হলে মেয়েকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই। দীর্ঘদিন মেয়ে আমার বাড়িতে থাকা অবস্থায় স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও বিষয়টির সমাধান করতে পারিনি। এদিকে মোঃ আব্দুল আলিম আমার মেয়ের বিষয়টি সমাধান না করেই এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দেবহাটার কাজী মহল্লার ময়না চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে এন্তাজ আলীর মেয়ে মুক্তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিষয়টি নিয়ে আব্দুল আলিম সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে নানা ধরনে উষ্কানিমূলক অপপ্রচার চালাতে থাকে। যা আমাদের জন্য চরম সম্মানহানিকর বিষয় হয়ে দাড়ায়।
রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাদের এমন কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৫ জানুয়ারি আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করি। একপর্যায় গত ২০ মার্চ আমার মেয়ে নিজেই আদালতের মাধ্যমে মোঃ আব্দুল আলিমকে তালাক প্রদান করে। পরে মেয়েকে আমি অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেই। বর্তমানে সে শশুর বাড়িতে শান্তিতে ঘর সংসার করছে। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে আব্দুল আলিম আমাদের নামে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভূয়া নিউজ প্রকাশ করে আমার ও মেয়ের সম্মানহানি করার পাশপাশি পারভীন সুলতানার সংসার ভাঙার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মূলত আব্দুল আলিম একজন লম্পট ও চরিত্রহীন ব্যক্তি। সে কিছু সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত খবর প্রকাশ করিয়েছে। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি উক্ত ঘটনার তীপ্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সাথে যদি আব্দুল আলিম তার এই কার্যকলাপ বন্ধ না রাখে এবং আমার মেয়েকে ঘর সংসার করতে বাধার সৃষ্টি করে, তাহলে আমি পুনরায় আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।
তিনি এবিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আব্দুল আলিমের ব্যাপারে সঠিক তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করত: সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানান।