মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরা সদরে পরিপত্র বহির্ভূতভাবে একই প্রশ্নে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহনের অভিযোগ দেবহাটায় নি ষি দ্ধ ছাত্রলীগের প্র কা শ্যে কার্যক্রম পরিচালনার প্র তি বা দে বি ক্ষো ভ মি ছি ল পারুলিয়ায় শিশুশ্রম তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আধুনিক ডাটা শেয়ারিং সপ্তাহ ব্যাপি সাতক্ষীরায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ সাতক্ষীরায় পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ দীর্ঘ রোগ ভোগের পর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা মেহের আলীর ক রু ণ মৃ ত্যু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গলায় ফাঁ স দেওয়ার ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিশুর করুণ মৃ ত্যু সাতক্ষীরায় মাসিক পুলিশ কল্যাণ সভায় পেশাদারিত্বের উপর জোর সাতক্ষীরায় পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সাইকেল র‍্যালি ডিবি গার্লস স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ

সুন্দরবনের ছায়ায় বিপন্ন অস্তিত্ব: সাতক্ষীরার মুন্ডা-ঋষি-জেলেদের বাঁচানোর আকুতি

✍️দেশ টাইমস নিউজ ডেস্ক ✅
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, দেবহাটা ও আশাশুনি এলাকার বিশাল অংশজুড়ে বাস করে মুন্ডা, ঋষি, কায়পুত্র ও জেলে সম্প্রদায়।

যুগ যুগ ধরে এই মানুষগুলো সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ, মাছ ধরা, শুকর চরানো, চামড়ার কাজ এবং কৃষিশ্রমের ওপর ভর করে টিকে রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আধুনিক সভ্যতার করাল গ্রাসে তাদের এই ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো আজ চরম সংকটের মুখে। নোনা পানির আগ্রাসন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় এখন এই প্রান্তিক মানুষদের নিত্যসঙ্গী।

সমাজের মূলধারা এবং মানসম্মত শিক্ষা থেকে দূরে থাকায় এই জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে নানামুখী সামাজিক বঞ্চনার শিকার। তাদের সবচেয়ে বড় ক্ষত হলো ভূমির অধিকারহীনতা। এদের একটি বিশাল অংশের নিজস্ব কোনো চাষের জমি নেই। ফলে বাপ-দাদার ভিটে হারিয়ে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এই চরম অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে তাদের আগামী প্রজন্মের ওপর। পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পেরে শত শত সন্তান স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। শৈশবেই তারা নামতে বাধ্য হচ্ছে সুন্দরবনের বাঘ-কুমিরের মুখে ঝুঁকিপূর্ণ উপার্জনে। অন্যদিকে, চরম অভাবের কারণে কন্যাশিশুরা শিকার হচ্ছে বাল্যবিয়ের। পুষ্টিহীনতা এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

অবশ্য আশার কথা হলো, বর্তমানে সরকারি ও কিছু বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিতে কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের সমুদ্রে বিন্দুমাত্র। এত শত প্রতিকূলতা, রাষ্ট্রীয় অবহেলা আর তীব্র দারিদ্র্যের মাঝেও মুন্ডা ও ঋষি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার বছরের বর্ণিল ঐতিহ্যকে বুকে ধরে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের এই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে।

এই বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তন করতে হলে কেবল সাময়িক ত্রাণ বা খয়রাতি অনুদান যথেষ্ট নয়। তাদের জীবনের টেকসই মানোন্নয়নে প্রয়োজন স্থায়ী পুনর্বাসন, নিজস্ব ভূমির আইনি অধিকার এবং জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি। রাষ্ট্র ও সমাজ যদি এখনই সচেতন না হয়, তবে এই মাটির সন্তানরা একদিন নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে। একটি প্রকৃত বৈষম্যহীন ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে এই প্রান্তিক মানুষের মানবিক অধিকার রক্ষা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

লেখক: মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!