সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ। উপজেলার ৪১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৭০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০১ জন শিক্ষার্থী। তবে উপজেলার কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বিপরীতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় শ্যামনগর উপজেলার ৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ হাজার ৭০৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৬৭৩ জন। ফলে উপজেলায় মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০১ জন। এছাড়া এ গ্রেড পেয়েছে ২৪১ জন, এ-মাইনাস পেয়েছে ২২০ জন, বি গ্রেড পেয়েছে ২৫২ জন, সি গ্রেড পেয়েছে ২১০ জন এবং ডি গ্রেড পেয়েছে ৬ জন।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে শ্যামনগর উপজেলায় এবার সেরা হয়েছে নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন শিক্ষার্থী।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কাশিমাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নুরনগর আশালতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। তবে এর বিপরীতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র চারজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দুঃখজনকভাবে চারজনই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।
শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে এমন ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যালোচনার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫১.১৮ শতাংশ এসএসসির পাশাপাশি শ্যামনগর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলও তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। উপজেলার ৩৫টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ১ হাজার ৬৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪৫ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৫২০ জন। ফলে দাখিলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ১৮ শতাংশ।
দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ জন শিক্ষার্থী। এ গ্রেড পেয়েছে ৮৯ জন, এ-মাইনাস পেয়েছে ১৩০ জন, বি গ্রেড পেয়েছে ১৩৫ জন, সি গ্রেড পেয়েছে ১৭৪ জন এবং ডি গ্রেড পেয়েছে ৮ জন।
দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে প্রথম হয়েছে জয়নগর আমিনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকি ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে মোট ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
দাখিল পরীক্ষাতেও কোনো মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
শ্যামনগর উপজেলায় এসএসসি (ভোকেশনাল/কারিগরি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩ জন। ফলে কারিগরি শিক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
শ্যামনগরে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একদিকে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে এসএসসিতে ১ হাজার ৭০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭৩ জন এবং দাখিলে ১ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে ৫২০ জন ফেল করেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভালো ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্যের কারণগুলো চিহ্নিত করে তা অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা গেলে ফলাফল আরও উন্নত করা সম্ভব। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম বা শূন্য, সেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এবারের ফলাফল শ্যামনগর উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য যেমন কিছু সাফল্যের বার্তা দিয়েছে, তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টিও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগামীতে উপজেলার ফলাফল আরও ভালো হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।