
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রথম পক্ষের সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট ‘২৬) বিকেলে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল গাজী, আব্দুল আজিজ মাস্টার, আসকার হোসেন, সেলিম হোসেন, শাহিন গাজী, মসলিমা খাতুন, অবিরোন বিবি, ফাইমা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, সোনাতলা গ্রামের ইসমাইল ঢালী ও আছমা খাতুনকে ঘিরে সৃষ্ট পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ ও অশান্তি চলছে। তাদের দাবি, ইসমাইল ঢালীর প্রথম স্ত্রী জরিনা খাতুন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান। এরপর তার মৃত্যুর মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ইসমাইল ঢালী আছমা খাতুনকে বিয়ে করেন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আছমা খাতুনের আগের স্বামী আব্দুর রহিম এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে। এই বিয়ের পর দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং উভয় পরিবারই ক্ষতির মুখে পড়ে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে ইসমাইল ঢালীর ছেলে জহিরুল আলম অভিযোগ করেন, “আমার মা মারা যাওয়ার পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমি ও আমার বোনকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। পাশাপাশি আমাদের হয়রানি করতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগও করা হয়েছে।”
অপরদিকে আছমা খাতুনের ছেলে আশাফুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা একজন দিনমজুর। কাজের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকেন। আমিও বাইরে থাকি। সেই সময়ে আমার মা ইসমাইল ঢালীকে বিয়ে করেছেন বলে জানতে পারি। এই ঘটনার কারণে দুটি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রথম পক্ষের সন্তানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া জহিরুল আলম, আব্দুল আজিজ মাস্টার, আমিরুল ইসলাম বাবু ও সাইদুর রহমান ময়নাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় হয়রানিমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং প্রথম পক্ষের সন্তানদের আইনানুগ পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।