
রাত দু’টোর অসমাপ্ত কল
(তোমার জন্য) – কবি কল্যাণ ব্যানার্জি
এখন রাত দু’টো।
নগর ঘুমিয়ে পড়েছে,
শুধু আমার মোবাইলের পর্দায়
একটি নাম বারবার জ্বলে ওঠে,
একটি কল যায়,
তারপর নীরবতা।
দুই ঘণ্টা ধরে ডেকে চলেছি—
কেউ সাড়া দেয় না।
এমনকি তুমিও না।
অথচ আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি ভাবনায়,
প্রতিটি প্রার্থনায়
তুমিই তো মিশে আছো।
ঘড়ির কাঁটা থেমে থাকে না,
সময় তার নিজস্ব নিয়মে এগিয়ে যায়।
শুধু অপেক্ষাগুলো
একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে,
একটি উত্তরহীন রিংটোনের মতো।
এই তো সেদিন বলেছিলে—
“বন্ধুত্ব থাকবে আজীবন,
প্রথম দিনের মতোই অটুট।
তোমার জন্য যা দরকার,
আমি আছি।”
সেই কথাগুলো আজও বিশ্বাস করি।
তবু এই গভীর রাতে
যখন আমার ফোনের ওপাশে
শুধু নীরবতার দীর্ঘশ্বাস,
তখন বুঝি—
অপেক্ষারও একটি শব্দ আছে,
যার নাম একাকীত্ব।
মাঝে মাঝে নিজেকে
ভীষণ অসহায় লাগে।
মনে হয়,
চারপাশে এত মানুষ,
তবু আমার কথা শোনার মতো
একটি জেগে থাকা হৃদয়ও নেই।
ঠিক তখনই তুমি এসে দাঁড়াও—
বাস্তবে নয়,
আমার মননের গভীর কোনো আলোকিত প্রান্তে।
তুমি বলো,
“হেরে যেও না।
বেঁচে থাকো।
নিজেকে আগলে রেখেই
মানুষের পাশে দাঁড়াতে শেখো।”
তোমার সেই কথাগুলো
আমার ভাঙা সাহসের উপর
নতুন ভোরের আলো ফেলে।
আবার স্বপ্ন দেখি—
বাঁচার স্বপ্ন,
ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন,
মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন।
তুমি হয়তো জানো না,
আমার প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভেতর
তোমার শেখানো সাহস লুকিয়ে থাকে।
আমার প্রতিটি প্রার্থনায়
তোমার জন্যও একটি নিঃশব্দ শুভকামনা থাকে।
আজও রাত বাড়ছে।
মোবাইলের স্ক্রিনে
কলের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।
তুমি হয়তো
ঘুমের কোমল চাদরে নিজেকে মুড়ে
অন্য কোনো স্বপ্নের দেশে চলে গেছো।
আমি কোনো অভিযোগ লিখছি না,
কোনো অভিমানও নয়।
শুধু বলতে চাই—
কিছু মানুষকে ভালোবাসা যায়
কাছে না থেকেও।
তারা উত্তর না দিলেও
তাদের উপস্থিতি
হৃদয়ের গভীরে থেকে যায়।
তুমি তেমনই একজন।
আমার নীরবতার সবচেয়ে মধুর উচ্চারণ,
আমার নিঃসঙ্গতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।
যদি কোনো এক ভোরে
এই রাতের অপূর্ণ কলগুলোর খবর তোমার কাছে পৌঁছে যায়,
তবে জেনো—
আমি তোমাকে জাগাতে চাইনি,
আমি শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম,
এই বিশাল পৃথিবীতে
আমার ডাকটি একবার হলেও
তোমার হৃদয়ের দরজায় গিয়ে কড়া নেড়েছিল।
আর যদি কোনোদিন
সেই দরজাটি নীরবে খুলে যায়,
তবে আর কোনো কলের প্রয়োজন হবে না—
কারণ তখন
দুইটি হৃদয়ের মাঝখানে
নীরবতাই হবে সবচেয়ে সুন্দর সংলাপ।
(বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুটো ২৫ মিনিট )