
সাতক্ষীরার তরুণ লেখক, গবেষক ও প্রকৃতিপ্রেমিক তারিক ইসলাম তাঁর সাহিত্যকর্ম, চিন্তাশীল লেখনী এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
২০০১ সালের ৭ মে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার আজিজপুর গ্রামে তারিক ইসলামের জন্ম। তাঁর পিতা মোঃ জামসেদ আলী এবং মাতা মমতাজ বেগম।
শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন চিন্তাশীল ও অনুসন্ধিৎসু স্বভাবের। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি গভীর আগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণধর্মী মানসিকতা তাঁকে লেখালেখির পথে ধাবিত করে।
তারিক ইসলামের লেখালেখির সূচনা কবিতা দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে তিনি গল্প, প্রবন্ধ এবং জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করেন। তাঁর লেখায় সমাজ, জীবন, দর্শন, বিজ্ঞান ও ধর্মীয় ভাবনার সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রে তাঁর আগ্রহ তাঁকে একজন বহুমাত্রিক চিন্তাবিদ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
শুধু সাহিত্যচর্চাই নয়, তারিক ইসলাম একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশকর্মী হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ‘সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার মাধ্যমে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভেষজ উদ্ভিদ রক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর মতে, “মানুষের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি বিশ্বাস করেন, বই পড়া ও গাছ লাগানো—এই দুটি অভ্যাস একজন মানুষকে মানবিক, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে। এ কারণে তিনি নিয়মিত গাছের চারা রোপণ, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং নতুন উদ্ভিদের খোঁজে কাজ করে থাকেন।
এ পর্যন্ত তারিক ইসলামের চারটি বই প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এর মধ্যে ‘দৃষ্টিভঙ্গি: ইতিবাচক চিন্তা-চেতনা’ এবং ‘চিন্তাধারা বদলান, জীবন বদলে যাবে’ বই দুটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। এই বইগুলোতে তিনি মানুষের চিন্তার ধরণ পরিবর্তন, আত্মউন্নয়ন এবং জীবনের বাস্তব দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এছাড়া তাঁর রচিত ‘আধুনিক পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন’ এবং ‘পুকুরে মুক্তা চাষ’ বই দুটি কৃষি ও বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব বই তাঁর কর্মমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারিক ইসলামের মূল লক্ষ্য একটি সচেতন, মানবিক ও সবুজ সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করবে। তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে বইমুখী ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে পারলেই ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে।
সাহিত্যচর্চা ও পরিবেশ আন্দোলনের সমন্বয়ে তারিক ইসলাম ধীরে ধীরে একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর এই সৃজনশীল কর্মকাণ্ড স্থানীয় তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছে।