বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কালিগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধিবাস অধিকারীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সৎকার  তালায় মৎস্য ঘেরের বাসা ভা ঙ চু র, লু ট পা ট, হ ত্যা র হু ম কি ও নি রা প ত্তা হী ন তা র অ ভি যো গে সংবাদ সম্মেলন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিবেশ উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ গোবিপ্রবি’র এফএনবি বিভাগ ও ব্র্যাক ইয়ুথ প্লাটফর্মের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর   গোপালগঞ্জে “সেবার ব্রতে চাকরি” – এ স্লোগানকে সামনে রেখে টিআরসি পদে নিয়োগ -এর প্রথম দিন সম্পন্ন সাতক্ষীরায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ৪৫৭ জন সাতক্ষীরায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধন কঠোর ন জ র দা রি তে সাতক্ষীরায় মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু সাতক্ষীরায় ১৯৭১ এ পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নি হ ত ৭০০ শরনার্থীর স্মরণসভা সাতক্ষীরায় প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক স হিং স তা প্র তি রো ধে আইনি সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিবেশ উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে ১৩ দফা সুপারিশ পেশ

✍️দেশ টাইমস নিউজ ডেস্ক ✅
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায়-যা সকল স্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে , সৃষ্টি করেছে অস্থিরতা। উদ্বেগ তুলে ধরে “পরিবেশ ও প্রতিবেশ ফোরাম-সাতক্ষীরা” এই বিষয়ে উদ্বেগে প্রকাশ করে বুধবার (২২ এপ্রিল ‘২৬) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয় এবং তা কার্যকর সমাধানের উপায় হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রুপান্তরের জন্য আহবান জানানো হয়েছে।

বলা হয়, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জ্বালানী সাশ্রয়ী নীতি ঘোষনা, সংকট মোকাবেলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন, এখনই একই সাথে জ্বালানী সংকটের সময় বিকল্প জ্বালানি হিসাবে নবায়নেোযাগ্য জ্বালানী বিশেষ করে সৌরশক্তি ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে কৌশলগতভাবে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়ানের দাবি এবং জ্বালানী রুপান্ত উপকরনের উপর থেকে সকল প্রকার কর রেয়াত প্রদান করার অনুরোধ জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা স্বদেশ,‘ক্লিন’ এবং ‘বিডব্লিউজিইডি’ এর সহযোগিতায় “ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম- সাতক্ষীরা” এর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মাধব চন্দ্র দত্ত, নির্বাহি পরিচালক স্বদেশ ও সদস্য সচিব“ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-” উপস্থিত আছেন- ফেরামের এ সভাপতি আব্দুল হামিদ।

আরও উপস্থিত আছেন ফোরাম সদস্য ক্রীসেন্ট সংস্থার পরিচালক আবু জাফর সিদ্দীকি, সাংবাদিক বরুন ব্যানার্জী, আসাদুজ্জামান মধু, মৃত্যুঞ্জয় রায় প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরা জেলা তথা দক্ষিন অঞ্চলে জ্বালানী তেল তথা প্রেট্রলের অভাব এবং তার দুর করার জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়। ফেরামের আহবায়ক বলেন, বৈশ্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি সরবরাহ সংকটে পড়ে। ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি ব্যয়ের ওপর এর চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াচ্ছে, যা টাকার মান কমানো এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় গত এক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি, এলপিজি ও পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, ৬৫ শতাংশ এলএনজি এবং অর্ধেকের বেশি এলপিজি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলে।

ফেরামের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দক্ষিন অঞ্চলে জ্বালানী সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ অচল হয়ে পড়ছে ১০টির মধ্যে ৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়েগেছে। শিল্প উৎপাদন কমছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে এবং কৃষিতে সেচব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। প্রতিবছর আমদের জ্বালানি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাড়ছে। ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পর থেকে বাংলাদেশ একটি ব্যয়বহুল জ্বালানি কাঠামোর মধ্যে আটকে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এলএনজি ও তেলের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর আমাদের স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে।

ফিলিপাইন,পাকিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ বিপ্লব একটি কার্যকর উদাহরণ, যেখানে স্বল্প সময়ে ব্যাপক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশেও প্রায় ৪ কোটির বেশি পরিবারের একটি বড় অংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে পারে।তাদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যা জ্বালানি আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং কৃষিখাতে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

এছাড়া জ্বালানি সংকট সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতির আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার, সরকারী-বেসরকারী ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কৃষি কাজে সৌরচালিত সেচ পাম্প বৃদ্ধি, গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক যান চালু এবং নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য স্বল্প সুদে ঋনের হার বাড়ানো। এছাড়া জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

ফেরামের সদস্যসচিব বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ঝুঁকি নয়, এটি একটি সুযোগও। এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে টেকসই ও স্বনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগোতে পারবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হবে দেশকে। আমরা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। বিকল্প জ্বালানী ও বিদ্যুৎ হিসাবে সৌর বিদ্যুৎ তথা সবুজ জ্বালানিতে স্বয়ম্ভরতা অর্জন এখন সময়ের দাবি, সরকার ইতোমধে একটি পথনকশা প্রেরন করেছে যা আমাদের স্বপ্ন দেখায়। আমরা মনেকরি এইমুহুর্তে সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানী হতে পারে টেকসই সমাধান এবং সে লক্ষ্যে ১৩ দফা দাবী পেশ করা হয়।

সুপারিশ:-

১.জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়া উচিত। ভাষণে সর্বোচ্চ জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নাগরিকদের প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের আহ্বান জানানো উচিত। এছাড়া প্রতিটি বাড়িতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বাড়িতে বসে দাপ্তরিক কাজের প্রসার, ব্যক্তিগত যানবাহন পরিহার এবং রান্নার জন্য এলপিজি’র পরিবর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার আহ্বান জানানো দরকার।

২.জীবাশ্ম জ্বালানির ঋণচক্র থেকে দূরে থাকা ইতোমধ্যেই একটি গোষ্ঠী আরো জ্বালানি আমদানি করার জন্য ঋণ গ্রহণ করা, নতুন কয়লাখনি খননের উদ্যোগ নেয়া এবং কয়লা-বিদ্যুৎকেন্দ্র বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে। এসব প্রস্তাবে সায় দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান তো আসবেই না, বরং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ আরো আমদানি, আরো পরিবেশ ধ্বংস ও আরো কার্বন নির্গমনের ফাঁদে আটকে যাবে।

৩.নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য আর্থিক প্রণোদনা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর থেকে সকল আমদানি শুল্ক, কর এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) তুলে দিতে হবে। এর ফলে ব্যক্তিগত ও শিল্প-কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের খরচ কমে যাবে।

৪.জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি ২০২৫ সালের শেষের দিকে ঘোষিত জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় অবিলম্বে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করতে হবে। প্রতিটি ব্যক্তিগত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা (২০৫ ডলার) ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নারী ও আদিবাসীদের অতিরিক্ত ১০% ভর্তুকি দিতে হবে।

৫.সৌর পার্ক দ্রুত অনুমোদন করা ইতোমধ্যে নির্মাণাধীন বেসরকারি ৩১৭ মেগাওয়াট সৌর-বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অবিলম্বে সম্পন্ন করতে হবে।

৬.সৌর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ বর্তমানে প্রতি বছর মাত্র ২০০-২৫০টি সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই এক বছরের মধ্যে নেট মিটারিং সংযোগসহ কমপক্ষে ১০ হাজার সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

৭.পরিবহণ খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ প্রধান শহরগুলোতে গণপরিবহনের জন্য অবিলম্বে বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহ ও চালু করতে হবে। পরিবহন খাতে পেট্রোলিয়াম-নির্ভরতা কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং অন্যান্য কর যত দ্রুত সম্ভব তুলে নিতে হবে।

৮.নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দক্ষতা উন্নয়ন তরুণ, নারী, আদিবাসী এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের জন্য অবিলম্বে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিতে হবে যাতে সৌরশক্তি স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় কমপক্ষে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

৯.স্বল্প-সুদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল ব্যক্তিগত ও শিল্প-কারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং সৌরচালিত সেচপাম্পের উদ্যোগে সহায়তা সহায়তা করার জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তন তহবিল গঠন করতে হবে। এই তহবিল সঞ্চালনে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কোনো সুদ নেবে না এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ন্যূনতম সুদ (৪%-এর কম) গ্রহণ করবে।

১০.নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ন্যূনতম বাজেট বরাদ্দের ধারা ভেঙে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অধীনে জ্বালানি বাজেটের কমপক্ষে ৪০% নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বেসরকারি খাতকে ছাড়িয়ে যায় এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী হয়।

১১.পরিচালন দক্ষতা এবং মেধা ক্রম বিদ্যমান উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ফ্রি গভর্নর মোড অপারেশন (FGMO) নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা কাজে লাগানো যাবে এবং সর্বনিম্ন খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা ব্যয়বহুল তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা কমাবে।

১২.পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার যত দ্রুত সম্ভব রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ন্যূনতম সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

১৩.টেকসই জ্বালানির জন্য ভর্তুকি সংস্কার বিদ্যুতের দামের উপর থেকে ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে তুলে নিতে হবে। এর ফলে ভোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভজনক হয়ে উঠবে এবং বিকেন্দ্রীভূত সমাজভিত্তিক নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ঘটবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!