শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেবহাটার ডিআরআরএ এর উদ্যোগে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন সাতক্ষীরায় হরিজন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবী ‎ গোবিপ্রবি ও ঢাবির উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে গবেষণা সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর  সাতক্ষীরায় বজ্রাঘাতে ঘের ব্যবসায়ীর মৃ ত্যু সাতক্ষীরায় ভ্যান চু রি র সময় দুই যুবক আ ট ক, পুলিশে সো প র্দ আশাশুনির মাদ্রাসার মুহতামিমের বি রু দ্ধে মি থ্যে অ প প্র চা রে প্র তি বা দে সংবাদ সম্মেলন সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সোয়াবিন তেল খেতে হবে- ড. মোহাম্মদ শোয়েব প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপিকে দেখতে গেলেন  আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা শ্যামনগর থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাচারকালে জব্দকৃত ৫০ বস্তা শামুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত 

বীর সেনানিদের বীরত্বগাঁথা- ১: লে: জি এম মুশফিকুর রহমান, বীর উত্তম

✍️শেখ আকিব হোসেন✅
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

শহিদ লেফটেন্যান্ট জিএম মুশফিকুর রহমান, বীর উত্তম গত ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৬ তারিখে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি হতে ১৫ বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের সাথে কমিশন লাভ করেন এবং ১ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারিতে যোগদান করেন।

১ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্তব্যরত থাকাকালীন তিনি খাগড়াছড়ি জেলার বাঘাইহাট জোনের অন্তর্গত লক্ষীছড়ি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ক্যাম্প কমান্ডার থাকাকালীন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ তারিখ ক্যাম্পের দায়িত্বাধীন কাসালং রিজার্ভ ফরেস্টের ঢেরাছড়া এলাকায় শান্তিবাহিনীর আস্তানার সন্ধান পেয়ে ০৩১০ ঘটিকায় বিশেষ অপারেশন পরিচালনার জন্য গমন করেন। উক্ত অপারেশনে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ৩ জন শান্তিবাহিনীর সদস্যকে ঘায়েল করেন। সেইসাথে ২টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, ইউনিফর্ম ও বিভিন্ন গোপনীয় দলিল পত্র উদ্ধার করেন। এই নির্ভীক, দায়িত্বশীল ও উচুঁ মনোবল সম্পন্ন অফিসার অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে অপারেশন পরিচালনা করে সম্পূর্ণ সফলতা অর্জন করেন।

তবে অপারেশনের এক পর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ও তিনি তাঁর অধিনস্থদের অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। যার ফলে তাঁর অধিনস্থ সেনাসদস্যগণও অফিসারের শরীরে গুলির আঘাতের ঝুঁকি আঁচ করতে পারেনি। সফল অপারেশন শেষে তাঁর রানার সৈনিক (ওসিইউ) মোস্তফা লক্ষ্য করে লেঃ মুশফিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসময় রানার চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে জিজ্ঞাস করে, “স্যার গুলি লেগেছে বলেননি কেন?” লেঃ মুশফিক তখন হাসিমুখে বলেন “আমার গুলি লেগেছে তা দেখলে তোমরা ভয় পেতে, দেশের চেয়ে আমার জীবন বড় নয়”। এক সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে এই অকুতোভয় নির্ভীক দেশপ্রেমিক অফিসার ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ তারিখ ০৮১৫ ঘটিকায় শাহাদৎ বরণ করেন। শরীরে বুলেট ধারণ করে নেতৃত্ব দেওয়ার যে অসাধারণ উদাহরণ লেঃ মুশফিক দিয়ে গেছেন তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

পরবর্তীতে ২৫ জানুয়ারি ১৯৯০ তারিখে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই বীর যোদ্ধাকে মরনোত্তর বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনিই হলেন একমাত্র বীর উত্তম। তাঁর বীরত্ব গাঁথা স্মরনীয় করে রাখার জন্য পরবর্তীতে লক্ষীছড়ি ক্যাম্পের নামকরণ করা হয় শহিদ লেঃ জি এম মুশফিকুর রহমান আর্মি ক্যাম্প।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!