মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্বা স রো ধ করে হ ত্যা, হ ত্যা কা রি কে ক্ষুব্ধ জনতর রো ষা ন লে নি হ ত তালায় প্রধান শিক্ষকের নি র্দে শ না মা না য় নৈশপ্রহরীকে মা র পি টে র অ ভি যো গ তালায় পূবালী ব্যাংকের র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গোপালগঞ্জে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা, অপরাধ পর্যালোচনা সভা ও বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা   গোপালগঞ্জে অ সা মা জি ক ক র্ম কা ণ্ডে মো বা ই ল কো র্ট: মা ম লা -১১, কা রা দ ণ্ড ও জ রি মা না আ দা য়  নয়াদিল্লি বাংলাদেশ হাইকমিশনে মিনিস্টার (প্রেস) পদে সাইদুর রহমানের নিয়োগে সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের অভিনন্দন শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা গড়তে দেবহাটায় সমঝোতা স্মারক সাতক্ষীরায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরায় আর্জেন্টিনা সাপোর্টারের স্ট্রো কে মৃ ত্যু সাতক্ষীরায় এক প্রাইভেট কার চালককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পানিতে ডু বি য়ে হ ত্যা!

আশাশুনির খোলপেটুয়া বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল: প্লাবনের আশঙ্কায় ২০ গ্রামের মানুষ

✍️দেশ টাইমস নিউজ ডেস্ক ✅
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে আকস্মিক ভয়াবহ ফাটল ও মাটি ধসের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের এই ঘটনায় স্থানীয় জনপদে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোত ও জোয়ারের চাপে বাঁধের নিচের অংশের মাটি সরে যাওয়ায় কাঠামোটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যদি দ্রুত এই ভাঙন রোধ করা না যায়, তবে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাঁধের কাঠামোগত অখণ্ডতা নষ্ট হওয়ায় আশাশুনির বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খোলপেটুয়া নদীর এই বেড়িবাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বাঁধের বর্তমান নাজুক অবস্থার কারণে বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, পাঁচপোতা, বাইনতলা, খাজরা ও লাউতাড়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত বছরের অভিজ্ঞতা তাদের আতঙ্কিত করে তুলেছে; সেবার লোনা পানি ঢুকে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির আমন চাষ ও মৎস্য ঘের ধ্বংস হয়েছিল। এবার বাঁধের ফাটলটি এতটাই গভীর যে, এটি ভেঙে পড়লে জনবসতিসহ কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, কারণ অস্থায়ী মেরামত তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও জনমনে সংশয় রয়ে গেছে।

আশাশুনি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, ভাঙনের তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নিশ্চিত করেছেন যে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আজ থেকেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, কেবল দায়সারা সংস্কার নয়, বরং বর্ষা মৌসুমের আগে বাঁধের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো গাফিলতির কারণে জনজীবন বিপন্ন না হয়।

খোলপেটুয়া নদীর এই বেড়িবাঁধের ভাঙন কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং এটি উপকূলীয় জনপদের সামগ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতারই প্রতিফলন। প্রতি বছরই সাতক্ষীরার বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে জনপদ প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটে, যা টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা। যদি এই মুহূর্তে বাঁধটি সংস্কারে কোনো ধরনের ত্রুটি বা শৈথিল্য প্রদর্শিত হয়, তবে এর প্রভাব পড়বে পুরো উপজেলার কৃষি অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ওপর।

প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হলে এবং বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী নজরদারি না থাকলে, ভবিষ্যতে উপকূলীয় এই জনপদে বিপর্যয়ের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!