
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আয়োজিত ঐতিহাসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা থেকে যোগ দিচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মী। পরিবহন সংকটের কারনে ইতিমধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তারেক রহমান আমাদের প্রিয় নেতা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামান মনির জানান, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর থেকে তাকে স্বাগত জানাতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহিন ইসলাম জানান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে বরণ সাতক্ষীরা জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের জন্য আলাদা গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযাগী সংগঠনর নতাকর্মীরাও ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু জানান, সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মী ঢাকায় তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এজন্য সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে প্রায় ৩০টি বাস ও ৩০টি মাইক্রোবাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রত্যক আসনের মনোনীত প্রার্থীকে আলাদাভাবে ২০ থেকে ৩০টি করে গাড়ি ম্যানেজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় শতাধিক যানবাহন ঢাকায় যাবে। কিছুটা পরিবহন সংকট থাকলেও আমরা তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, পরিবহন সংকটের কারণে ইতিমধ্যে অসংখ্য নেতাকর্মী নিজ উদ্যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। কেউ কেউ আগেভাগেই ঢাকায় পৌঁছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন।
অপরদিকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে এবং সংবর্ধনা দিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-০৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে আশাশুনির আনুলিয়া, আশাশুনি, বড়দল, বুধহাটা, দরগাপুর, কাদাকাটি, খাজরা, কুল্যা, প্রতাপনগর, শোভনালী এবং শ্রীউলা এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ভারা সিমলা, বিষ্ণুপুর, চম্পাফুল, দক্ষিণ শ্রীপুর, ধলবাড়িয়া, কৃষ্ণনগর, কুশলিয়া, মথুরেশপুর, মৌতলা, নলতা, রতনপুর, তারালী ইউনিয়ন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে বড় একটি বহর। এ বহরে ১২০০ নেতা-কর্মী যোগ দিবেন। ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ৮টায় কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের এই বহর রওনা হবে।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা ০৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দীনের জ্যেষ্ঠপুত্র ও সাতক্ষীরা-০৩ আসনে বিএনপির সোসাল ও মিডিয়া ম্যানেজার কাজী সাজিদুর রহমান জানান, দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করবে। তাকে বরণ করতে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি থেকে ১০ টি বাস, ১০টি মাইক্রোবাস প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া পরিবহণ সংকটের কারণে ১০ টির বেশি প্রাইভেট গাড়ি যাবে ওই বহরে। মঙ্গলবার রাত ৮টার সময় আশাশুনি এবং কালিগঞ্জ থেকে রওনা হয়ে সাতক্ষীরা বিনেরপোতা বাইপাস সড়ক বিসিক এলাকায় মিলিত হয়ে বড় বহরটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
কাজী সাজেদুর রহমান আরো জানান, ইতোমধ্যে মঙ্গলবার সকালে আশাশুনির প্রতাপতনগর থেকে শতাধিক নেতা-কর্মী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৮টায় কাজী আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে বড় বহর রওনা হবে। এর মধ্যে আমার নিজস্ব তত্বাবধানে ৪০০ নেতা-কর্মীর থাকা-খাওয়ার জন্য রূপগঞ্জে আমার ফেক্টরীর সাথে গেস্টহাউজ প্রস্তুত করা হয়েছে। যেহেতু একদিন আগে থেকে দলীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকায় অবস্থান করবেন তাই জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সফল করতে সাতক্ষীরা সহ দেশবাসীদের কাছে দোয়া কামনা করেছেন কাজী সাজেদুর রহমান।