ছোটপর্দার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুরাইয়া হুদা রাত্রি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং সেখানে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। দূর পরবাসে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বিদেশে দীর্ঘ সময় পার করলেও প্রবাসী বাঙালিদের ভালোবাসা এবং অভিনয়ের স্মৃতি এখনো তাকে আনন্দ দেয় বলে জানান তিনি। একটি গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “এখানে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি।
১৯৭৭ সালের ২০ জুলাই ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সুরাইয়া হুদা রাত্রি। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের জগতে তার পথচলা শুরু হয়। নব্বই দশকের শেষভাগে ‘ধূসর বসন্ত’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় তার অভিষেক ঘটে। তবে তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ‘আত্মাহুতির পালা’ নাটকটি, যেখানে তিনি গুণী অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পান। এটি প্রচারের পর তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন এবং বড়পর্দার বহু পরিচালক তাকে সিনেমায় নেওয়ার আগ্রহ দেখান। নব্বই দশকের শেষ লগ্নে টিভি নাটকে পা রাখেন। তবে এখন আর অভিনয়ে নেই পর্দার সেই ‘রাজকন্যা’। সোনালি দিনে ফিরে গিয়ে রাত্রি বলেন, “আত্মাহুতির পালা’ নাটক প্রচার হওয়ার পর আমার ক্যারিয়ার পুরোপুরি বদলে যায়। সেই সঙ্গে সিনেমার অনেক পরিচালক তখন আমাকে বড়পর্দায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন।
অভিনয় জীবনে গ্রামের সাধারণ বধূ, শহুরে চটপটে তরুণী কিংবা রাজকন্যার মতো নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন রাত্রি। তিনি তৎকালীন সময়ের শীর্ষ তারকা মাহফুজ আহমেদ, আজিজুল হাকিম ও আহমেদ রুবেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন। বিশেষ করে অভিনেতা আজিজুল হাকিমের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাদের অভিনীত ‘হীরামন’, ‘আংটি’, ‘কখন বাজবে সে ঘণ্টা’, ‘তুমি আসবে বলে’, ‘রাতের পাখি’ ও ‘সোনালি সন্ধ্যায়’ নাটকগুলো দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়। প্রখ্যাত পরিচালক সুভাষ দত্তের ‘আংটি’ নাটকে রাত্রির অভিনয় এখনো দর্শকরা মনে রেখেছেন।
ক্যারিয়ারের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই সুরাইয়া হুদা রাত্রি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। প্রবাসে পাড়ি দেওয়ার ছয় বছর পর তিনি প্রথম দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি সোজা শুটিং সেটে গিয়ে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ ধারাবাহিক নাটকে অংশ নেন। এতদিন পর ফিরলেও দর্শকরা তার অভিনীত নাটকগুলোর কথা ভুলে যাননি দেখে তিনি অভিভূত হন। তার ৬ বছর পর প্রথমবার দেশে ফিরে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। সেই ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “ওই বছর বিমানবন্দর থেকে নেমেই সোজা শুটিং করতে গিয়েছিলাম।
বিদেশে অবস্থান করলেও সেখানকার প্রবাসী বাঙালিরা রাত্রির অভিনীত কাজের প্রশংসা করেন। নিউ ইয়র্কে একসময় তার নাটকের সিডি বিক্রি হতো এবং ভক্তরা নাম ধরে ধরে সেসব নাটকের কথা বলতেন। বর্তমানেও মাঝেমধ্যে প্রবাসে বাংলাদেশি কারও সঙ্গে দেখা হলে তারা তাকে চিনে ফেলেন এবং পুরনো কাজের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন, যা তাকে ভীষণ আনন্দিত করে।
তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘বনের পাপিয়া’, ‘আরেক জীবন’, ‘কবে হবে দেখা’, ‘আনমনে তবুও’, ‘স্বপ্ন দেখে মন’, ‘অবাক তোলপাড়’, ‘আগন্তুক’, ‘অপরাহ্নের ভালোবাসা’, ‘তৃতীয় নয়ন’, ‘নিঃশ্বাসে ছোঁয়া পাই’ এবং ‘প্রশ্ন’।










