খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১ নম্বর খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন ও ২ নম্বর কমলছড়ি ইউনিয়নের সংযোগস্থল বিজিতলা ঘাটে চেঙ্গী নদীর ওপর স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিনের যাতায়াত বিড়ম্বনা দূর করতে দুই পাড়ের বাসিন্দারা মিলে এই সেতু তৈরি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বিজিতলা ঘাটটি অত্যন্ত পুরোনো এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পারাপারের পথ। স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার হওয়া গেলেও শুষ্ক মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নৌকায় চলাচলের সুযোগ থাকে না, আবার হেঁটে পার হতে গিয়ে কাপড়চোপড় ভিজে যাওয়া বা জুতা-স্যান্ডেল খোলার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয়রা শুকনো মৌসুমে কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করছেন। তবে গত দুই-তিন বছর ধরে সেতু নির্মাণের পুরো খরচ বহন করছেন স্থানীয় বেতছড়ি মারমা পাড়ার বাসিন্দা রাম্রাচাই মারমা। প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি টিকে থাকে মাত্র ছয় থেকে সাত মাস। বর্ষা মৌসুমের তীব্র স্রোতে এটি ভেসে যাওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে।
সেতুটি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় রবিজয় চাকমা, শ্যামল চাকমা ও চাইহ্লাউয়ের সঙ্গে। তারা জানান, অস্থায়ী এই সেতু পারাপারে সুবিধা হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নিয়মিত চলাচলের জন্য এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি। বেতছড়ি গ্রামের বাসিন্দা মমং মারমা বলেন, ইটছড়ি, গামাড়িঢালা ও বেতছড়ি মারমা পাড়াসহ আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য বারবার দাবি জানালেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান দত্ত ত্রিপুরা জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি একাধিকবার সরকারের কাছে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান জানান, বিজিতলা ঘাটের বিষয়টি তাদের নজরে আছে। তিনি জানান, ওই স্থানটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রাক্কলন তৈরি করে দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।










