সারাদেশ

COP সম্মেলন: জলবায়ু ন্যায়বিচারের মঞ্চ, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রদর্শনী? -বাহলুল আলম

দেশ টাইমস-
দেশ টাইমস-  সারাদেশ ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

COP সম্মেলন: জলবায়ু ন্যায়বিচারের মঞ্চ, নাকি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রদর্শনী? -বাহলুল আলম

জলবায়ু পরিবর্তন আজ আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়; এটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নিঃসরণ, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO₂) ক্রমবর্ধমান নির্গমন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। অথচ এই সংকট সৃষ্টিতে যাদের ঐতিহাসিক দায় সবচেয়ে বেশি, সেই শিল্পোন্নত ও ধনী রাষ্ট্রগুলোই আজ জলবায়ু মোকাবিলার অর্থায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থায়নের বড় অংশই আসছে ঋণ হিসেবে। ফলে সংকট সৃষ্টিতে যাদের দায় সবচেয়ে কম, তাদেরই আবার সংকট মোকাবিলার জন্য ঋণের বোঝা বহন করতে হচ্ছে!

বাংলাদেশ: বৈশ্বিক নিঃসরণে সামান্য অবদান, জলবায়ু ঝুঁকিতে বড় মূল্য-

Global Carbon Budget ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গমনে বাংলাদেশের অবদান মাত্র ০.২৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের বার্ষিক নির্গমন পরিসংখ্যানে ২০৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪০তম। অন্যদিকে, Germanwatch-এর Climate Risk Index 2026 অনুযায়ী, ১৯৯৫–২০২৪ সালের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।অর্থাৎ, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়া, প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির অভিঘাত বহন করতে হচ্ছে অত্যন্ত বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত গড় বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমান। এই ক্ষয়ক্ষতির বড় প্রভাব পড়ে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীবিকা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। এখানেই জলবায়ু ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্ন: যারা সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে কম দায়ী, তাদেরই কেন সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হবে?

প্রতিশ্রুতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের, বাস্তবায়নে বিলম্ব; অর্থায়নে ঋণের আধিপত্য-

২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলন (COP15)-এ উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি; ২০২২ সালে গিয়ে প্রথমবারের মতো তা অর্জিত হয়। অর্থাৎ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুই বছর বিলম্ব হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের কোনো বাধ্যতামূলক অনুপাত নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সহায়তার নামে ঋণনির্ভর অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। Organisation for Economic Co-operation and Development (OECD)-এর Climate Finance Provided and Mobilised by Developed Countries in ২০১৩-১৪ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উন্নত দেশগুলোর মোট সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের ৬৭ শতাংশ ছিল ঋণ, ২৯ শতাংশ অনুদান এবং বাকি অংশ ইকুইটি বিনিয়োগ। অর্থাৎ, সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে প্রায় ৬৭ ডলারই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, জলবায়ু সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো কি এই অর্থায়ন গ্রহণ করে নতুন ঋণের বোঝা বহন করবে, নাকি তাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে অনুদান পাবে?

COP: জলবায়ু ন্যায়বিচারের মঞ্চ, নাকি ঋণনির্ভর অর্থায়নের নতুন দরকষাকষি?

বিশ্বের শিল্পোন্নত ও ধনী রাষ্ট্রগুলোই ঐতিহাসিকভাবে অধিক কার্বন নিঃসরণ ও অপরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্তমান জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দায় বহন করে। অথচ এই সংকট মোকাবিলার নামে তারাই প্রতিবছর আয়োজন করছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন—Conference of the Parties (COP)। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এসব সম্মেলন কি সত্যিই জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মঞ্চ, নাকি প্রতিশ্রুতি, আলোচনা ও অর্থায়নের নামে ঋণনির্ভর ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে COP সম্মেলনে প্রায় ৪০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত মানুষ অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন আয়োজনেও ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। উদাহরণ হিসেবে, COP28 আয়োজনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাবে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের কথা উঠে এসেছে। কিন্তু এত আয়োজন, এত অংশগ্রহণকারী, এত আলোচনা, ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির পর বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে? জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরেছে? অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তারা কি তাদের ন্যায্য, পর্যাপ্ত ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন পেয়েছে? তাহলে কি COP সম্মেলন ধীরে ধীরে কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের মঞ্চ থেকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা, কূটনৈতিক প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে? এমনকি প্রশ্ন জাগে—জলবায়ু সংকট সমাধানের সম্মেলন কি হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে এক ধরনের আন্তর্জাতিক পিকনিক স্পটে পরিণত হচ্ছে? আমাদের প্রশ্ন সম্মেলন আয়োজনের বিরোধিতা নয়; প্রশ্ন হলো, এত বিপুল অর্থ, সময় ও আয়োজনের বিনিময়ে জলবায়ু ন্যায়বিচারের বাস্তব অগ্রগতি কোথায়?

বাংলাদেশের COP অংশগ্রহণ: ব্যয় কত, অর্জন কী, জবাবদিহি কোথায়?

প্রতিটি COP সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁদের অংশগ্রহণে সামগ্রিক ব্যয় কত, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে, কতটুকু অর্থায়ন আদায় করতে পেরেছে এবং সেই অর্থের কতটুকু বাস্তবে ছাড় হয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত মূল্যায়ন জনসমক্ষে কতটা প্রকাশিত হয়? গত ১০ বছরে প্রতিটি COP-এ বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কতজন অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের বিমানভাড়া, হোটেল, দৈনিক ভাতা, প্যাভিলিয়ন, যাতায়াত ও অন্যান্য খাতে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রতিটি সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ কী কী লিখিত সিদ্ধান্ত, প্রতিশ্রুতি ও অর্থায়ন পেয়েছে, প্রাপ্ত অর্থের কতটুকু অনুদান, কতটুকু ঋণ এবং কত অর্থ বাস্তবে ছাড় হয়েছে—সেসব তথ্যও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, COP-এ অংশগ্রহণের ফলে বাংলাদেশের কোন কোন অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কত মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং প্রতিটি সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের অর্জন, ব্যয় ও অর্থায়নের বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের সরকারের উচিত প্রতিটি COP শেষে একটি ‘COP Participation, Expenditure and Achievement Report’ প্রকাশ করা। এই প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ও পরিচয়, সরকারি-বেসরকারি ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব, আলোচনার ফলাফল, প্রাপ্ত অর্থায়ন, অনুদান ও ঋণের অনুপাত, বাস্তবে ছাড় হওয়া অর্থ এবং প্রকৃত উপকারভোগীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। কারণ জনগণের অর্থে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি জনগণের কাছে তার ব্যয়, অর্জন ও কার্যকারিতার জবাবদিহি নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জলবায়ু ন্যায়বিচার: প্রতিশ্রুতি নয়, চাই বাস্তবায়ন-

বাংলাদেশের বাস্তবতায় জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি আরও জরুরি। কারণ এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার, নিরাপদ পানির সংকট, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষ নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হারাচ্ছেন এবং জীবিকা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। এসব ক্ষয়ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, বসতভিটা, জীবিকা ও মর্যাদার প্রশ্ন। বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাও (NAP 2023–2050) পানি, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের অর্থায়ন নতুন ঋণের বোঝা হয়ে আসা উচিত নয়। উপকূলীয় বাঁধ ও পোল্ডার সংস্কার, নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, মিঠাপানির জলাধার সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, লবণসহিষ্ণু ও স্থানীয় উপযোগী কৃষি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত অনুদান প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব পরিবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে বসতভিটা, জমি ও জীবিকা হারিয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সহজলভ্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের NAP-এ উপকূলীয় মিঠাপানির ব্যবস্থাপনা, লবণাক্ততা পর্যবেক্ষণ, বাঁধ ও দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামোর মতো উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু জলবায়ু সংকটের ঐতিহাসিক দায় ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিবেচনায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বও এড়ানোর সুযোগ নেই। জলবায়ু অর্থায়নের নামে বাংলাদেশকে এমন ঋণ গ্রহণে বাধ্য করা উচিত নয়, যার সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণকেই বহন করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন এমন অর্থায়ন, যা উপকূলের মানুষের নিরাপদ পানি, কৃষি, জীবিকা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—নতুন ঋণের বোঝা তৈরি করবে না।
বাংলাদেশের জন্য আমাদের দাবি তাই স্পষ্ট: অভিযোজন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে পর্যাপ্ত অনুদান, Loss and Damage মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরাসরি ও সহজলভ্য অর্থায়ন, জলবায়ু সহনশীল উপকূলীয় অবকাঠামো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে অভিযোজন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উপকূলীয় নারী, কৃষক, জেলে, শ্রমজীবী মানুষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী নয়; কিন্তু এর মূল্য প্রতিদিন দিচ্ছে। তাই আমাদের দাবি কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি ন্যায্য অধিকার। ঋণ নয়, অনুদান; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থায়ন; কাগুজে পরিকল্পনা নয়, উপকূলের মানুষের জীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন—এটাই জলবায়ু ন্যায়বিচার।

আমাদের দাবি: ঋণ নয়, ন্যায্য অধিকার; প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থায়ন-

যেসব দেশ ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দায়ী, তাদের দায়িত্ব শুধু সম্মেলন আয়োজন, ঘোষণা দেওয়া কিংবা নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সেই দায়িত্বের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে অর্থায়নে, নীতিনির্ধারণে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনে। বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মানুষ কি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতই বহন করবে, আর সংকট মোকাবিলার জন্য ঋণের বোঝা বইবে? এটি কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না। জলবায়ু অর্থায়ন কোনো দয়া, অনুগ্রহ কিংবা বাণিজ্যিক ঋণ নয়। এটি ঐতিহাসিক দায়, ন্যায্যতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। আমরা ঋণ নয়, ন্যায্য অধিকার চাই। প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থায়ন চাই। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও অনুদানভিত্তিক সহায়তা চাই। জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাঁধে ঋণের বোঝা চাপিয়ে নয়, ঐতিহাসিক দায়ের ন্যায্য স্বীকৃতি ও দায়িত্বশীল অর্থায়নের (ক্ষতিপূরণ) মাধ্যমে।

লেখক: বাহলুল আলম, প্রধান সমন্বয়কারী, এড সিভিক ভয়েজ বাংলাদেশে