ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরার এক আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে।
পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা একটি মামলায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওই এলাকার চণ্ডীপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের সন্তান।
তার বিরুদ্ধে দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের চিত্র ব্যবহার করে ভয় দেখানো, অর্থ দাবি এবং ইন্টারনেটে আপত্তিকর চিত্র প্রকাশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব আলী বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যোগাযোগ তৈরি হয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী ভুক্তভোগীর অজান্তে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই ভিডিও পাঠিয়ে তাকে আতঙ্কিত করা হয় এবং পরবর্তীতে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এজাহার অনুযায়ী গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ২০ অক্টোবর যোগাযোগ করে অভিযুক্তরা এক লাখ টাকা দাবি করে। এ ছাড়া ২৯ অক্টোবর বিকালে দুটি ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও পুলিশি পদক্ষেপ
- বাদী সাহেব আলী জানান, তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ, পরে তিন লাখ এবং পরবর্তীতে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।
- তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি রফাদফা হলেও অভিযুক্তরা ব্ল্যাকমেল বন্ধ করেনি এবং পরবর্তীতে আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
- নিরুপায় হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
- সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক জামিল কবির গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও আপত্তিকর কনটেন্ট অপপ্রচারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










