ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। গত ৩১ অক্টোবর (শনিবার) পাঠানো ওই নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিনেমার জন্য শিডিউল দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সিনেমাটির প্রযোজক শাহরিন আক্তার এবং পরিচালক জুবায়ের ইবনে বকর। ‘ঠিকানা’ নামে এই সিনেমাটি ঈদ অথবা ঈদের পরে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের, তবে চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ উল্লেখ ছিল না। ১১ ধারায় উল্লেখ আছে সিনেমাটি মুক্তি অথবা মুক্তির শিডিউলের সময় প্রসঙ্গে। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দিব।
বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভেঙে শরীফুল রাজ এক গণমাধ্যমকে জানান, তাকে বারবার শিডিউল এবং টাকার বিষয়ে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা তাকে হতবাক করেছে। রাজের কথায়, টাকা চাইলে তারা নিয়ে যেতে পারেন, কারণ তিনি কাজ করতে এসেছেন। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ না করার কোনো রেকর্ড নেই। তিনি আরও বলেন, চুক্তিপত্রের ৪.১১ ধারা অনুযায়ী সিনেমার মুক্তি বা শিডিউল নির্ধারণের শর্তাবলী স্পষ্ট নয়। নোটিশে যে অস্পষ্টতার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে নায়কের। যাই হোক, পেশাগত জায়গায় আমি এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়েই বেশি ভাবতে চাই।
প্রযোজকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ জানান, সিনেমাটি ঈদের জন্য ভাবা হলেও অন্য কোনো কাজ করা যাবে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা চুক্তিতে ছিল না। তিনি বলেন, তার শিডিউল চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে যেভাবে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা পেশাদারিত্বের দিক থেকে কাম্য নয়। তিনি এখন থেকে আইনিভাবেই সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন। কিন্তু আপনি সেভাবে শিডিউল দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ প্রযোজকের।
চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দ্বিমত থাকলেও প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি নিজের সম্মানের কথা জানিয়েছেন শরীফুল রাজ। তিনি বলেন, পেশাদার জীবনে শুধু একটি সিনেমা নিয়ে বসে থাকা সম্ভব নয়। তিনি শুটিংয়ের জন্য শিডিউল দিতে প্রস্তুত এবং আশা করেন প্রযোজক-পরিচালক বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে অনুধাবন করবেন। তবে আইনি নোটিশের প্রতিক্রিয়ায় এখন তিনি বিষয়টি আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করবেন। খানিকটা ব্যাখ্যা করে শরীফুল রাজ বলেন, “চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি। এখন বছরে তো আমি একটাই সিনেমা করছি না।










