
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম, ডিলার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে অবশেষে বহুল বিতর্কিত কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে।
তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে যশোরের চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইনকে কালিগঞ্জের নতুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওয়াসিম উদ্দিনকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায় বদলির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই আদেশে মুশাব্বির হোসাইনকে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এদিকে বহুল বিতর্কিত কৃষি কর্মকর্তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাভোগী সার ডিলারদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক সার ডিলার কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।
এর আগে কালিগঞ্জে সার বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ ছিল, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও কোনো কোনো ডিলার ‘সার নেই’ এমন অজুহাত দেখিয়ে কিংবা চাহিদার তুলনায় কম সার সরবরাহ করে কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য করছেন।
বিশেষ করে ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ‘মেসার্স মাতৃ এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘দীপ্ত ভ্যারাইটিজ স্টোর এন্ড ট্রেডার্স এবং হক ট্রেডাসসহ কয়েকটি ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ডিলারশিপ পরিচালনা এবং নিয়মবহির্ভূত ভাবে সাব-ডিলারদের কম সার দিয়ে অবশিষ্ট সার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলেও তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিম উদ্দিন কালিগঞ্জে সার সংকট নেই বলে দাবি করে নিয়মিত মনিটরিংয়ের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ডিলারদের মধ্যে কথিত সিন্ডিকেট ভাঙা এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে কৃষক ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব অভিযোগ ও নানা আলোচনার মধ্যেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস আদেশে ওয়াসিম উদ্দিনকে মধুখালী উপজেলায় বদলি করা হলো। একই সঙ্গে মুশাব্বির হোসাইনকে কালিগঞ্জের নতুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।