
আনন্দঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে হয়েছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ১৪৩৩। প্রচন্ড তাপদাহের মধ্যে আগুনের পরশমণি সংগীতে সংগীতে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
শনিবার (২৯ আগষ্ট ‘২৬) বিকেল তিনটায় সাতক্ষীরা ঋশিল্পী সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে ও উদ্বোধনী বক্তৃতায় সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রানুরাগী আবুল ফারাহ পলাশ। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। অধিবেশন পরিচালনা করেন নয়ন ভট্টাচার্য।
সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় বিশেষ ক্রোড়পত্র।
‘আমি ভয় করব না -ভয় করব না শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে অনুষ্ঠিত এই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা শাখা কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের খুলনা অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনকে সর্বসম্মতিক্রমে সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন নয়ন ভট্টাচার্য।
সম্মেলনের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অবদান রাখা প্রয়াণ হওয়া কৃতি মানুষদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না। সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মশু, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলাম, কিংবদন্তী সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী, নাগরিক কমিটির প্রয়াত সভাপতি আনিসুর রহিম, এডভোকেট অরুণ ব্যানার্জী, এডভোকেট কামরুন নাহার ছবি, সনাক ও ম্যাপের সভাপতি ড. দিলারা বেগম সহ অন্যান্য প্রয়াত গুণী ব্যক্তিত্বদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনের মূল কক্ষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে তৃষ্ণা মণ্ডল, পায়েল ঘোষ, প্রাঞ্জল সরকার, আগমনী বর্মন, মনিষা মণ্ডল এবং তৌফিক আহাম্মেদের আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে কেশবপুর, পাটকেলঘাটা শাখার নেতৃবৃন্দ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতা বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী অশোক সাহা।
সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের এই দ্বি-বার্ষিক উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
সম্মেলনের উদ্বোধক আবুল ফারাহ পলাশ বলেন, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেবল গান শেখার বা গাওয়ার কোনো মঞ্চ নয়; এটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ার এক নীরব সংগ্রাম। প্রান্তিক পর্যায় থেকে নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের অন্তরে রবীন্দ্র চেতনাকে প্রজ্জ্বলিত রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাতক্ষীরা শাখার এই প্র প্রাণবন্ত আয়োজন প্রমাণ করে, শিকড়ের টানে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ। যারা দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে, সাধনা দিয়ে এই সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন আসুন, সুরের আলোয় দূর করি সকল সংকীর্ণতা ও অশুভকে। আর গান হোক আমাদের প্রতিরোধের ভাষা, আর সংস্কৃতি হোক আমাদের আত্মপরিচয়।