খুলনার ডুমুরিয়ায় দিন দুপুরে চৌধুরী বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও তান্ডবলীলা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এসময় তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলাকারীরা ভবনের ২য় তলার তিনটি শয়ন কক্ষের আসবাব পত্র ভাঙচুর করে। এসময় আলমারি, শো-কেস ও ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রক্ষিত নগদ ৪ লাখ টাকা এবং ৬ ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের গহনাসহ সাড়ে ১৬ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ‘২৬) দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী চৌধুরী অশিয়ার রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাগুরাঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার (১৪ ও ১৫ আগস্ট) সকালে দুই পরিবারের দুটি শিশুদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এনিয়ে প্রতিপক্ষ থানায় অভিযোগ করেন। যাহা বৃহস্পতিবার সকালে থানা অভ্যন্তরে আপোষ মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশী বৈঠক হয়। কিন্ত সালিশী সিন্ধান্তের পূর্বেই হামলায় নেতৃত্বদানকারি আব্দুল্লাহ ও তার সহযোগীরা থানা থেকে বের হয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল যোগাযোগে বাড়িতে এসে ভিকটিমের বাড়িতে অর্তকিত হামলা চালায়।
এসময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে পথিমধ্যে একাধিক প্রতিবেশির ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন তার বাড়িতে ভাংচুর চালাচ্ছে। এরপর ভুক্তভোগী মাগুরাঘোনা ক্যাম্প পুলিশের সহযোগীতায় বাড়িতে পৌঁছুলে হামলাকারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ জানা গেছে, আরশনগর এলাকার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪)’র নেতৃত্বে জহিরুল ইসলাম সরদার (৩৫), ইয়াছিন সরদারের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪২) ও চন্ডিপুর এলাকার জিন্নাত খাঁর ছেলে জুলফিকার খাঁ (৪৫) বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে ভুক্তভোগীর ২য় তলা ভবণের তিনটি শয়ন কক্ষের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা ব্যাপক তান্ডবলীলা চালিয়ে সবগুলো কক্ষের মধ্যে থাকা মুল্যবান আসবাব পত্র ভেঙে ফেলে। এ সময় কক্ষের আলমারি, শো-কেস, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ ৪ লক্ষ টাকা এবং সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা মুল্যের স্বর্ণালংকারসহ সাড়ে ১৬ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী অশিয়ার রহমান চৌধুরী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এস আই অনিমেষকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।