
মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি আর নিচের পানিতে মাছ সমন্বিত এই চাষ পদ্ধতিতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কৃষকেরা। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’পাশে ঘেরের আইলে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শত শত পরিবার।
তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলাজুড়ে ২৭৬ হেক্টর জমিতে সমন্বিত চাষ হয়েছে। নগরঘাটা, সরুলিয়া, খলিষখালীসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে ব্যাপকভাবে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে। ঘেরের আইলে উৎপাদিত এসব সবজি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও বিষমুক্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার নগরঘাটা মিঠাবাড়ি এলাকায় দু’পাশে চোখে পড়বে নয়নাভিরাম সবুজ দৃশ্য। নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি, নগরঘাটা ও শাকদাহ বিলে শত শত হেক্টর ঘেরের আইলে মাচায় ঝুলছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, খিরাই, বেগুন, পুঁইশাক, বরবটি, ঝিঙে ও লালশাক। মাচায় ঝুলছে শত শত করলা, লাউ ও কুমড়া। কোনো কোনো ঘেরের বেড়িবাঁধে তরমুজ চাষেও সফলতা এসেছে।
স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, ৩ বিঘা ঘেরে বাঁশ ও নেট দিয়ে মাচা তৈরিতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে তাঁর আয় ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। পানি শুকিয়ে গেলে এই জমিতেই ধানের চাষ করবেন তিনি।
আরেক কৃষক আব্দুর রহিম সরদার জানান, মাচা দুই-তিন বছর পর পর তৈরি করতে হয় বলে উৎপাদনের খরচ অনেক কমে যায়।
এদিকে পার্শ্ববর্তী সফল মৎস্য চাষি তরিকুল ইসলাম, ভূবনেশ্বর, স্বপন, অসিত কুমার মণ্ডল, তবিবুর রহমান ও আমান উল্লাহর ঘেরেও একই দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ, প্রকৃতিকে দিয়েছে মনোরম রূপ। প্রত্যেকের ঘেরের মাচায় ঝুলছে করলা, লাউ ও কুমড়া।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, মৎস্য ঘেরের আইলে সবজি চাষে বেশ লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এ পদ্ধতিতে ঘেরের আইলে সবজি ও নিচে মাছ চাষে মৎস্যচাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সমন্বিত এ পদ্ধতিতে মাছ ও সবজি চাষে চাষিদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।