বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে আহছানিয়া ঘোজাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন: সিরাজুল সভাপতি ও মোস্তাফিজুর সহ-সভাপতি  কালীগঞ্জে ৫৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মা দ ক ব্যবসায়ী গ্রে প্তা র সাতক্ষীরায় প্রাইভেটকার চালক সুমন হ ত্যা র ঘটনায় থানায় মা ম লা এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ বিতর্ক: প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্য এবং বায়োডাটা ঘিরে নতুন মোড় তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে স ন্ত্রা সী হা ম লা ও হ ত্যা র হু ম কি র অ ভি যো গ ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের ২৬ ঘর ভা ঙ্গ নে র ক ব লে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন শহিদুল ইসলাম কালিগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী হ ত্যা র ঘটনাস্থল পরিদর্শনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন পিপিএম

ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের ২৬ ঘর ভা ঙ্গ নে র ক ব লে

✍️ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস গাজী📝 ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

খুলনার ডুমুরিয়ার ভদ্রা নদীর তীর ঘেষে নির্মিত আবাসন প্রকল্পের ২৬ টি ঘর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। দেশব্যাপী বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ডুমুরিয়ার ভদ্রা ও হরি নদী খননের কারণে এ ঘর গুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ফলে ঐ এলাকায় বসবাসকারী ২৬ টি পরিবার অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় তাদের ঘর গুলো নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফাঁটল ধরেছে অনেক ঘর।

সরজমিনে গিয়ে অত্র আবাসন প্রকল্পের একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলা বাজারের সন্নিকটে ভদ্রা নদীর তীর ঘেষে গৃহহীনদের বসবাসের জন্য আবাসন প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করা হয়।ইতিমধ্যে আবাসন প্রকল্প-সংলগ্ন এলাকায় চলমান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নদী খননের পর তীরে ফেলা মাটি গড়িয়ে আবাসন প্রকল্পের বেশ কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সে সময় কয়েকটি ঘর বসবাসের জন্য অনুপােযোগী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সরকারের তৎক্ষনাৎ পদক্ষেপ বিশেষ করে খুলনা ৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলি আসগার লবি এমপির ঐকান্তিক চেষ্টায় সেখান থেকে দ্রুত মাটি সরিয়ে ফেলানোসহ ঘর গুলো সংস্কার করে দেওয়া হয়। ফলে ঘর গুলো বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠে।

জানা যায়, যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর ৮১ কিলোমিটার খননকাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পের মধ্যেই রয়েছে ভদ্রা ও হরি নদী খনন। যে নদীর পাড়ে রয়েছে সরকারের আবাসন প্রকল্প। ২০২১-২২ ও ২৩ অর্থবছরে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গৃহহীন ও বাস্তুহারা অসহায় মানুষের জন্য নদীর চরভরাট করে সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প। শতাধিক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনায় ঘর নির্মাণ না করায় চুকনগর, কাঁঠালতলা ও বরাতিয়ার ১৩৯টি ঘর ভদ্রা নদী খননের হুমকিতে পড়ে।

অপরিকল্পিতভাবে প্রবহমান নদীর চরে ঘর তৈরি করায় নদীর সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এ কারণে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদী খনন প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক হয় ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মধ্যে এটি স্বাক্ষরিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের পর এ প্রকল্পের আওতায় অভয়নগরের ভবদহ ২১-ভেন্ট স্লুইসগেট থেকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাশিমপুর পর্যন্ত ভদ্রা ও হরি নদীর ১৫ কিলোমিটার, উপজেলার কাশিমপুর থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত তেলিগাতী নদী ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হয়। এতে কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের ২৬ টি ঘর বরাবর নদী খনন করতে হয়। একেবারে ঘর বরাবর নদী খনন করায় বর্তমানে ঘর গুলো ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ঐ আবাসন প্রকল্পে বসবাসকারী মনিরা বেগম, রওশন আরা বেগম, ফরিদা বেগম, বিল্লাল হোসেন, আব্দুর রশিদ বলেন, নদী খননের সময় সেনাবাহিনী আমাদের বলেছিল, তাদের ঘরের পিছন দিয়ে পাইলিং করে দিবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পাইলিং না করায় আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে ঘরে বসবাস করছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেওয়ালে ফাটল ধরে নদীর দিকে ঝুকে পড়েছে। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের রাতে ঘরে ঘুমাতে হচ্ছে।
ডুমুরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস জানান, নদী খননের কারণে কাঁঠালতলা আবাসন প্রকল্পের কিছু ঘর ঝুঁকির মধ্যে আছে। সেটা বিবেচনা করে ইউএনও স্যার ও আমি পাইলিং করার জন্য মন্ত্রালয়ে আবেদন করেছি। প্রকল্প পাশ হলেই আমরা ঝুকিপূর্ণ ঘরের পিছন দিয়ে পাইলিং করবো।

ভবদহ সংশিষ্ট নদী খনন প্রকল্পের সমন্বয়কারী যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, ইতিমধ্যে নদী খননের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আবাসন প্রকল্পের তীর ঘেষে নদী খনন করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি ফেলানো হয়েছিল। যা ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নদী খননের কারণে আবাসন প্রকল্পের ঘর নদীতে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে সেটা তার জানা নেই।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!