রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুন্দরবনে মু ক্তি প ণে র দা বি তে দুই বনজীবী অ প হ র ণ তালায় ৬ পিস ই য়া বা সহ যুবক আ ট ক সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত  শ্যামনগরে ২০ লাখ টাকা মু ক্তি প ণে র দাবিতে অনিমেষ পরমান্য নামের এক পশু চিকিৎসককে অ প হ র ণ বাস্তুহারা দলের তালা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন: লিটন আহবায়ক, মফিজুল সদস্য সচিব গাবুরায় সড়কের ওপর ঘেরের মাটি: চার হাজার মানুষের চলাচলের পথ এখন ‘খাল’ সাতক্ষীরা ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাণসায়ের খাল রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হলেন দেবহাটার সজল নবজীবনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ সারাদেশের কা রা ব ন্দি সাংবাদিকদের মু ক্তি র দা বি তে সাতক্ষীরায় অ ব স্থা ন কর্মসূচি

সুন্দরবনে হরিণ শিকার: গত এক বছরে ৯৫ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার, ১৩টি মামলায় গ্রেপ্তার ২০ জন, ১৫০০ ফাঁদ উদ্ধার

✍️রঘুনাথ খাঁ📝 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২৫০ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে হরিণ শিকারীরা বেপরোয়া। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা গুলি করে বা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার অব্যহত রেখেছে।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে হরিণ রক্ষা প্রকল্প চলমান। হরিণ সুরক্ষায় সুন্দরবনে বনবিভাগের চারটি কেল্লা আছে। তথ্যদাতা, উদ্ধারকারি, আসামী ধরিয়ে দেওয়া ছাড়াও লোকালয়ে আসা হরিণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এই হরিণ রক্ষা প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।

সুন্দরবনে মায়া হরিণ ও চিত্রা হরিণ নামে দুই প্রজাতির হরিণ পাওয়া যায়। মায়া হরিণের সংখ্যা কম, চিত্রা হরিণের সংখ্যা বেশি। হরিণ বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়।

সূত্রটি আরো জানায়, ২০২৪ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বনবিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ২০জন চোরাশিকারী। পলাতক রয়েছে চারজন। এক বছরে ৯৫ কেজি ৫০০ গ্রাম হরিণের মাংস জব্দ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ আগষ্ঠ শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর চার মাস ২৫ দিনে ৭৮ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করা হয়। এ ছাড়া গত এক বছরে একটি মৃত হরিণ, এক পিস হরিণের চামড়া, দেড় হাজার পিস হরিণ মারার ফাঁদ, ৫০০ কলিজা জব্দ করা হয়।

সুন্দরবনে কর্মরত কয়েকজন জেলে ও মৌয়াল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে অবৈধ অনুপ্রবেশ কঠোর হস্তে দমন করা হয়। এ সময় শিকারীরা অনেকেই অন্য পেশায় চলে যায়। ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর প্রশাসনিক দুর্বলতা বিশেষ করে বনবিভাগ, কোষ্ট গার্ড ও পুলিশ নিজেদের দুর্বল বোধ করায় শিকারীরা আবারো বনে ঢুকতে শুরু করে। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছে বনদস্যু। মাঝে মাঝে চোরা শিকারীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি হরিণের মাংস ও ফাঁদ উদ্ধার করা গেলেও বড় অংশের চোরাশিকারীরা রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ ছাড়া ৫ আগষ্ট সাতক্ষীরা কারাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ৮৭ জন আসামীর মধ্যে একটি অংশ নিজেদের রক্ষায় সুন্দরবনে ঢুকে পড়ে। তাদের কেউ কেউ সুন্দরবনের ভারতের অংশে পালিয়ে গেছে। এ ছাড়া শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা সদর থানায় লুট হওয়া সরকারি ও জনগনের লাইসেন্সকৃত বন্দুক নিয়ে গাবুরা, পদ্মপুকুর, হরিনগর, রমজাননগর, পাইকগাছা ও কয়রাসহ বিভিন্ন এলাকার আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুদের একটি অংশ সুন্দরবনের মধ্যে অবস্থান করছে। তারা খাদ্য সংগ্রহ করতে হরিণ শিকার করছে। তারা জেলেদের নৌকা থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। ভয়ে অনেকেই এখন পাস নিয়ে মধু সংগ্রহ বা মাছ ধরতে বনে যেতে সাহস করছে না।

এ ব্যাপারে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বণসংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, সুন্দরবনের হরিণ শিকার বন্ধ ও বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি রোধ ও বনজীবিদের নিরাপত্তায় বনবিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সুন্দরবন সুরক্ষায় খুব শীঘ্রই বনবিভাগ, কোষ্ট গার্ড, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!