সড়ক আছে, কিন্তু চলাচলের উপায় নেই! কোথাও হাঁটু সমান পানি, কোথাও বড় বড় গর্ত – খুলনার ডুমুরিয়ার গফফার সড়ক এখন যেন খানাখন্দে ভরা এক মরণফাঁদ।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় ৮টি স্থানে সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও চরমে উঠেছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা ও রংপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ প্রতিদিন উপজেলা পরিষদ, থানা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করেন এ সড়ক দিয়ে। একই সঙ্গে ফুলতলা, অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুরের মানুষের ডুমুরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। অথচ দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রংপুরের বাসিন্দা শক্তি মল্লিক বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু গফফার সড়কে উঠলেই শুরু হয় দুর্ভোগ। খানাখন্দ গুলো অনেক জায়গায় পুকুরের মতো হয়ে গেছে।
ভ্যান চালক মো. নজরুল সানা (৫৬), মো. শফিকুল ইসলাম (৫৫), শেখ নজরুল ইসলাম (৭৫) ও আলামিন সরদার (২৮) বলেন, গত দুই-তিন বছর ধরে সড়কের অবস্থা খারাপ। বছরের প্রায় ছয় মাস বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকে। খানাখন্দে পড়ে প্রতিনিয়ত ভ্যানের যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। যা আয় করেন, তার বড় অংশই গাড়ি মেরামতে চলে যায়।
ইজিবাইকচালক মো. মনিরুল বিশ্বাস (৫৮), আব্দুল হাদি বিশ্বাস (৪৫) ও মো. শহিদ বিশ্বাস (৬০) বলেন, সড়কের গর্তে পড়ে প্রায়ই ইজিবাইক উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এতে যানবাহনের ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
ডুমুরিয়া যুব উন্নয়ন অফিসের মো. পির আলী বলেন, প্রতিদিন অফিসের কাজে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাজের আশ্বাস, কবে কাটবে দুর্ভোগ? এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, গফফার সড়কের উন্নয়নের জন্য কয়েকবার বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সড়কটি আরও উঁচু করে সংস্কার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে পানিতে সড়ক তলিয়ে না যায়।
স্থানীয়দের দাবি, বাজেট অনুমোদনের অপেক্ষায় আর কতদিন? দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও উঁচু করা না হলে বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গফফার সড়ককে চলাচলের উপযোগী করবে।