
তুমি এসেছিলে
তুমি এসেছিলে এক সন্ধ্যার বাতাসে,
আলতো কুয়াশা মেখে—
একটি গোধূলির দীর্ঘশ্বাসে ভিজে,
নরম আলোয় ছুঁয়ে দিলে আমার চোখের ভেতর
প্রাচীন শঙ্খের মতো নিঃসঙ্গতা।আমি জানতাম না তখন—
তোমার শব্দেরা শুধু বসন্তের উড়ন্ত তুলো,
যা ছুঁয়ে যায়, কিন্তু থাকে না।
তবু আমি অভ্যস্ত হলাম—
তোমার কণ্ঠস্বরের উষ্ণতায়,
ভোরের প্রথম আলোর মতো তোমার বার্তায়,
যেনো জীবন একটা দীর্ঘ মায়াবী ঘোর।তারপর একদিন হুট করেই—
তুমি বদলে গেলে,
তোমার সময়ের আয়নায় আমি অস্পষ্ট হয়ে গেলাম,
আমার বার্তাগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল,
ফিরতি কোনো ডাক পেল না,
শুধু নীরবতা—
নরম অথচ ধারালো,
বুকের মধ্যে জমে থাকা পাথরের মতো।আমি অপেক্ষা করতে করতে
একদিন বুঝে গেলাম,
তুমি ছিলে না আসলে;
ছিলো শুধু তোমার ছায়া,
যা সময়ের সঙ্গে মিশে গেছে
একটা ক্ষয়িষ্ণু নদীর মতো।এখন আবার আমি একা—
কিন্তু এই একাকীত্ব
সেই পুরনো একাকীত্ব নয়,
এ এক পুড়ে যাওয়া অরণ্যের নিঃসঙ্গতা,
যেখানে সবুজেরা আর ফিরে আসে না,
শুধু পোড়া কাঠের গন্ধ থাকে বাতাসে,
আর থাকে স্মৃতির ছাইভস্মে এক টুকরো বিদায়বেলা।০০:০১
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫