সাতক্ষীরার তালায় ক্রয়কৃত জমিতে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘেরাবেড়া ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা এস এম নুরুল ইসলাম।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ‘২৬) সকালে তালা বাজারের মেলাখোলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সৈয়দ দিদার, রিপন ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজন জানান, তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম তালা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেনের ভোগদখলীয় জমির মধ্যে থেকে ২০২৬ সালের ২৬৯১ নম্বর দলিলে ৪ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমিটি তাঁর নামে নামজারি করে সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে মৃত জালাল ডাক্তারের ছেলে শহিদুলসহ কয়েকজন লোকজন নিয়ে সেখানে এসে কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় ঘেরাবেড়া ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
জানা যায়, এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন মৃত সৈয়দ আব্দুস সাত্তারের ওয়ারিশ সৈয়দ আবু নসুর, সৈয়দ আবু আলম, সৈয়দ আবু আয়ুর ও সৈয়দ আব্দুল জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৮০ শতক জমি ক্রয় করেন।
এদিকে জমির মালিকানা নিয়ে পুরোনো কিছু দলিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটির দাবি, এসব দলিলের কয়েকটিতে দাগ নম্বর, তারিখ এবং দাতা-গ্রহীতার নাম কাটাকাটির অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আদালতের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
এস এম নুরুল ইসলাম বলেন, “আমি ন্যায্য মূল্যে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সরদার জাকির হোসেনের ভোগদখলীয় জমি থেকে ৪ শতক জমি ক্রয় করেছি। জমিটি আমার নামে নামজারি করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করছি। শনিবার দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে শহিদুলসহ কয়েকজন এসে আমার কাজে বাধা দেয় এবং ঘেরাবেড়া ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমার শ্রমিকদের মারধরেরও চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুলসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।