ভারতের উড়িষ্যা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এমভি ওশেন উইনার’ ডুবে যাওয়ার পর থেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজটি শনিবার (২২ আগস্ট ‘২৬) বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়।
জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জন চীনের, ৩ জন মিয়ানমারের ও ১ জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজডুবির পর এ পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
তবে বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল্লাহ আল মামুনের অবস্থান সম্পর্কে এখনো তাঁর পরিবারকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তার পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।
নিখোঁজ মামুনের বাড়ি সাতক্ষীরা সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকায়। তার পিতার নাম ডাক্তার আব্দুর রহিম।
তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন কোথাও যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে পারছেন না।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়।
এরপর কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। জাহাজটি রাত ৮টার দিকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের ‘বরদ’ ও ‘আনমোল’ নামের দুটি টহল জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে ‘বিজিত’ নামের আরেকটি টহল জাহাজও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান চলছে।
গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে যোগ দেন মামুন। ওড়িশা উপকূল থেকে জাহাজ ছাড়ার রাতে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। তারপর জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে।