
সাতক্ষীরায় হাজী কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
হাজী কল্যাণ সংস্থা সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ডা. আবুল কালাম বাবলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সম্মেলন সংস্থার সভাপতি আলহাজ্ব মো. দ্বীন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে দেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলহাজ্ব আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
এসময় তিনি বলেন, হাজিরা সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। হজ্বের পবিত্রতা ও শৃংখলা বজায় রেখে তাঁদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করা উচিত। সমাজ থেকে অন্যায় ও অপরাধ দূর করতে হাজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সম্মেলনে হজ্বের তাৎপর্য ও এর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা নাজির মাহমুদ। তিনি হজ্বের মূল শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
কল্যাণকর সমাজ গঠনে হজ্বের শিক্ষা ও হাজিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন ঝাউডাঙ্গা মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী। তিনি বলেন, হজ্ব কবলে আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; এর মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, সংযম ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা পাওয়া যায়। এসব শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব হাজিদেরও রয়েছে।
হজ্বের মাধ্যমে পাপমুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে আলঝচনা করেন সাতক্ষীরা বড়বাজার জাম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, হজ্ব শেষে একজন হাজি যে পাপমুক্ত জীবনের প্রত্যয় নিয়ে ফেরেন, তা সারা জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
হজ্বের হাকিকত নিয়ে বিশেষ দারস দেন মুফতি মাওলানা আব্দুল্লাহ।
সম্মেলনে বক্তারা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে হজ্বের শিক্ষা বাস্তবায়ন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং অন্যায়-অপরাধ প্রতিরোধে হাজিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আলহাজ্ব শেখ নিজাম উদ্দীন।