শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সিবিআর কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
📝মোঃ হাফিজুর রহমান✍️নিজস্ব প্রতিবেদক✅
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
১৮
বার পড়া হয়েছে
উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো। ‘খ্রীষ্টীয় স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সামাজিকভিত্তিক পুনর্বাসন (সিবিআর) কেন্দ্র-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই ‘২৬) বর্ণাঢ্য আয়োজন, প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
নবপ্রতিষ্ঠিত এই সিবিআর কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক পুনর্বাসন সেবা, ফিজিওথেরাপি, বিশেষ শিক্ষা এবং বিকাশমূলক সহায়তা সহজলভ্য করা। দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে এ ধরনের বিশেষায়িত সেবার অভাব থাকায় অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্তে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য যেতে হতো। নতুন এই কেন্দ্র চালু হওয়ায় স্থানীয় জনগণ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খ্রীষ্টীয় ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি মিস মনিকা তোজি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিডিওর নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান, ফাদার লুইজি পাজ্জিসহ খ্রীষ্টীয় ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী সোলে, মারিয়া, জানমার্কো ও অ্যালিস।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে পুনর্বাসন সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই সিবিআর কেন্দ্রের মাধ্যমে শ্যামনগর ও আশপাশের এলাকার শত শত প্রতিবন্ধী মানুষ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা উন্নতমানের সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু চিকিৎসা ও পুনর্বাসনই নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্বনির্ভর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানান, এখানে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য আধুনিক ফিজিওথেরাপি সেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শারীরিক, মানসিক, ভাষাগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিশেষ শিক্ষা, থেরাপি এবং প্রয়োজনভিত্তিক বিকাশমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন পুনর্বাসনমূলক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
খ্রীষ্টীয় স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন প্রকল্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘সুস্থ জীবন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তারা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই শ্যামনগর সিবিআর কেন্দ্র স্থানীয় মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হবে এবং প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সেবার একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সমাজসেবক, অভিভাবক, সেবাগ্রহীতা, স্বেচ্ছাসেবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি অতিথির উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে নতুন এই সেবাকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এই সিবিআর কেন্দ্র একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি তাদের স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং মানবিক সমাজ গঠনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।