
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এক ঘের ব্যবসায়ির ইজারা নেওয়া খলিশাখালী মৌজায় ১৯৯ বিঘা জমি সন্ত্রাসী আব্দুল আজিজ গং কর্তৃক অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ‘২৬) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে ইজারা নেওয়া ঘের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন দেবহাটা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ঢালীর ছেলে মোঃ আহছান উল্লাহ ঢালী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি গাজীরহাট বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বিভিন্ন ব্যবসার মধ্যে দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী মৌজায় ১৩২০ বিঘা জমির একটি জলাকার চার জন অংশিদারিত্বে বিগত ২০২২ সাল থেকে মাছ চাষ করিয়া আসছিলাম। কিন্তু ২০২৩ সালে আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় ভূমিহীন নামধারী ভূমিদস্যুরা ঘেরটি দখল করে নেয়। ২০২৪ সালে আমরা সকল অংশিদারগণ সম্মিলিত ভাবে ভূমি দস্যুদের কবল থেকে ঘেরটি উদ্ধার করি। প্রতিমধ্যে আমার অংশিদার সথিপুর গ্রামের মৃত সালামতুল্লাহ গাজীর ছেলে আব্দুল আজিজ গং আমার সাথে প্রতারণা করে কয়েকজন জমির মালিকের নিকট থেকে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়। বিষয়টি জানার পর আমিও কয়েকজন জমির প্রকৃত মালিকের নিকট থেকে ১৯৯ বিঘা জমি নতুন করে ২০২৬ সাল থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত লীজের চুক্তিপত্র করি। কিন্তু আব্দুল আজিজ দেবহাটা বিএনপির শীর্ষ দুইজন নেতার ছত্রছায়ায় আমার লিজকৃত জমি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। বিনিময় আজিজ গংরা বিএনপির কথিত ওই নেতাকে ২০০ বিঘা এবং সন্ত্রাসীদের ৩০০ বিঘা ও জামায়াত নেতাদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য ১১২ বিঘা জমি অবৈধভাবে ভোগদখল করার সুযোগ করে দিয়াছে। অথচ এদের কারো বৈধভাবে লীজের কোন কাগজপত্র নেই।
তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেক জমির মালিক আছে যাদের অল্প অল্প জমি এবং এটাই তাদের মূল সম্পদ। কিন্তু এই সন্ত্রাসী বাহিনীর দাপটে তারা তাদের নিজ জমিতে প্রবেশ করতে পারছে না। ওই এলাকায় অবস্থানকারি সন্ত্রাসীদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নজর ফাকী দিয়ে তারা বহাল তবিয়তে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
আহছান উল্লাহ ঢালী আরো বলেন, আমি আমার লীজকৃত জমি বুঝে পাওয়ার জন্য দেবহাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ একাধিকবার অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে সমাধানের জন্য সালিশ বৈঠক করলেও সন্ত্রাসী আব্দুল আজিজ ও তার পোষা নেতাদের কারণে সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খোঁজ খবর নিলে সত্যতা জানা যাবে।
তিনি লীজকৃত ১৯৯ বিঘা জমি যাতে শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোগদখলে যেতে পারেন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।