সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিক জাহিদুর রহমান পলাশের সুস্থ্যতা কামনা আশাশুনির বেতনা নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হচ্ছে বেড়িবাঁধ, ভাঙনের মুখে শত বছরের ঐতিহ্য বুধহাটা বাজার কোটালীপাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীকে কু পি য়ে জ খ মে র ঘটনায় আটকদের জেলহাজতে প্রেরণ  দেবহাটায় খেলাধুলার মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন জাগরণ দেবহাটায় শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা শ্যামনগরে আশা ব্রিকস্ ও পেট্রোল পাম্পের মালিক আরব আলী গাজীর বা ড়ী তে দূ র্ধ র্ষ চু রি কালিগঞ্জে গ লা য় ফাঁ স দিয়ে গৃহবধুর আ ত্ম হ ত্যা সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালে ও রাস্তার দু’ধারে বাথরুমের সেফটি ট্যাংকির ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ, দেখার কেউ নেই! কালিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ঘের মালিকের মৃ ত্যু তালায় ১০ লাখ টাকার টাইলস রাস্তা: ১৫ দিনেই উঠে যাচ্ছে টাইলস

হাসপাতালে সে বা না দিয়ে ক্লিনিক রেফার, শ্যামনগরে ক্লিনিকে আট কে রেখে রোগীর স্বজনদের মা রপিটের অভি যোগ 

✍️রঘুনাথ খাঁ📝 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক প্রসুতি মাকে সরকারি হাসপাতাল থেকে পার্শ্ববর্তী আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়ার  প্রতিবাদ করায় বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে শুক্রবার (০২ জানুয়ারি ‘২৬) ভোরে কক্ষে  রোগীর স্বজনদের আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। এতে নারীসহ আহত হয়েছেন ৪জন।

রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে,  কাশীমাড়ি গ্রামের এক প্রসুতি মায়ের প্রসবজনিত তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শংকরকাটি এলাকায় বহনকারী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে একটি সন্তান প্রসব হয়। তবে শিশুর জন্ম হলেও প্রসূতির ফুল (প্লাসেন্টা) না পড়ায় দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, ওই সময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় নিজেকে জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচয় দিয়ে সেলিম হোসেন নামের এক যুবক সেখানে চিকিৎসক নেই উল্লেখ করে রোগীকে পার্শ্ববর্তী আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে রোগীকে দ্রুত আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে ডা. আনিসুর রহমানসহ ক্লিনিকের দায়িত্বরত সদস্যরা তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ক্লিনিকের কয়েকজন নার্স একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। এ সময় চিকিৎসা বাবদ খরচ জানতে চাইলে প্রথমে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে স্বজনরা অপারগতা প্রকাশ করলে দাবি কমিয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

রোগীর পরিবার জানায়, এত অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় তারা রোগীকে ক্লিনিক থেকে নিয়ে যেতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে রোগীর স্বামী কামাল উদ্দিন (৩৬) ও তার বড় ভাবি জাকিয়া সুলতানা (৩৮) গুরুতর আহত হন। এছাড়া ফাতিমা খাতুন ও শাহানারা খাতুনকেও মারধর করা হয়। আহতরা বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পাব ভেবেই রোগীকে সেখানে নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য করা হয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় চিকিৎসা তো পাইনি, উল্টো মারধরের শিকার হয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল ডা. নাজমুল হুদার। হাসপাতালের রেকর্ডে তার দায়িত্ব থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, নিজেদের মধ্যে দায়িত্বের আন্তঃপরিবর্তনের মাধ্যমে ওই সময়ের দায়িত্ব ডা. আনিসুর রহমানকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট সময়ে ডা. আনিসুর রহমান জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন না করে তার পরিচালিত আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। ফলে ওই সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ ওঠে।

এদিকে ঘটনায় রোগীর বড় দেবর আলাউদ্দিন সানা শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং ডেলিভারি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্লিনিকের ভেতরে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, রোগীর স্বজনরাই তার ওপরে হামলা করেছে। অপর দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. নাজমুল হুদার পরিবর্তে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের রেকর্ড দেখেন, আমি সে সময় দায়িত্বে ছিলাম না।

অভিযোগের বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  খালেদুর রহমান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!