
শিশুদের অংশগ্রহণে শক্তিশালী শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে নিরাপদ সমাজ গঠনে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ ‘১৬) উপজেলার দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে সাতক্ষীরার দেবহাটা এরিয়া প্রেগ্রামের আয়োজনে এবং সুশীলনের বাস্তবায়নে এ সভার অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বকুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফসার আলী, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা খালিদ হাসান খান, ইউপি সদস্য আজগর আলী, ইউপি সদস্য রেহেনা পারভীন, শিশু সুরক্ষা কমিটির উত্তম রায়, বিলকিস নাদিরা, ফিরোজ শাহ আলম প্রমুখ।
সুশীলনের সিডিও নিলাদ্রী বিশ্বাসের পরিচালনায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশীলনের সিডিও মিজানুর রহমান। এসময় ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, চাইল্ড ফোরাম, যুব, জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন।
সভায় শিশুশ্রমের কুফল তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশুশ্রমের কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মেধাবিকাশ ব্যাহত করে এবং তাদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়। এটি অশিক্ষা, অপুষ্টি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সামাজিক শোষণের শিকার করে। বিশেষ করে ভারী কাজের ফলে শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায় এবং মানসিক চাপ বা শোষণের শিকার হয়ে তারা বিষণ্নতা ও ভয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠে। বিদ্যালয়ের পরিবর্তে কাজের স্থানে সময় কাটানোর ফলে তারা শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। কলকারখানা, গ্যারেজ বা পাথরের ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। শিশুশ্রমের কারণে তারা অশিক্ষিত থেকে যায়, ফলে ভবিষ্যতে ভালো আয়ের সুযোগ পায় না এবং দরিদ্র রয়ে যায়। অল্প বয়সে কাজ করতে গিয়ে তারা নানাভাবে, এমনকি যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়। পাশাপাশি শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়। যার মধ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে, উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করে ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে হবে, শিশুশ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, শিশুশ্রমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে পরিবার, সমাজ ও মালিকপক্ষকে সচেতন করা, শিশুশ্রমিক নিয়োগের বিরুদ্ধে কমিউনিটি ভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা এবং “শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়” স্লোগান ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুশ্রম নিরসনে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, নিয়োগকর্তা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জানানো হয়।