বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডুমুরিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও থানা পুলিশের অ ভি যা নে আ ট ক-৪  দেবহাটার সুবর্ণবাদ শ্মশানের জমি দ খ লে র প্র তি বা দে গ্রামবাসীর মানববন্ধন   দেবহাটায় বার্ষিক ক্রীড়া ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান মির্জা ফখরুল ও রিজভীকে অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল চুকনগর বাসস্ট্যান্ডে সদ্য নির্মিত গোলচত্বরটি বালিবাহী ট্রাকের ধা ক্কা য় ব্যাপক ক্ষ য় ক্ষ তি সাতক্ষীরায় মানবাধিকার আইনজীবি ফোরাম সদস্যের সাথে ত্রৈ-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত রতনপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুর রহমান আকাশের বাড়ছে জনপ্রিয়তা গোবিপ্রবিতে মাসের ব্যবধানে ২ ভিসি পরিবর্তন, নতুন ভিসি ড. মো. সোহেল হাসান গোপালগঞ্জে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ তালা শহীদ কামেল মডেল হাইস্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কলারোয়ায় ফোর মার্ডার: গর্ভধারিনীর কোল হারা শিশু মারিয়া এখন আরেক মায়ের কোলে

রঘুনাথ খাঁ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

গর্ভধারিনী মায়ের কোল হারা চার মাসের শিশু মারিয়া আরেক মায়ের মুখের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকছে। সে হাসছে , কাঁদছে, আবার সব কথা কোন পেতে বেশ শুনছে।

শুধু সে জাননো সে হারিয়েছে তার জন্মদাতা বাবা ও মাকে। আরও এক ভাই এক বোনকে হারিয়ে সে এখন সর্বস্বহারা।

বৃহস্পতিবার ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলসি গ্রামের একই পরিবারের চার খুন ঘটনার পর শিশু মারিয়াকে ঘাতকরা নিহত মা ও ভাইবোনের পাশে রেখে যায়। সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শিশুটির দায়িত্ব গ্রহন করছ হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে জিম্মায় দেন।
এরপর থেকে সদস্য নাসিমা খাতুন মায়েরমমতা ও উষ্ণ আদরে তাকে লালন করছেন। তবে মারিয়ার বাবা , মা ও ভাইবোনদের দৃষ্টামূলক শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা।

হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন বলেন, তিনি শিশুটিকে লালন করার সুযোগ পেয়ে কৃতার্থ হয়েছেন। তার হেফাজতে যতদিন থাকবে ততদিন ধরে আমি তাকে তিল তিল করে গড়ে তুলবো। তিনি ও তার পরিবারের সব সদস্য শিশুটিকে আনায় দারুন খুশী। মারিয়া তার কোলে পিঠে হাসছে, কাঁদছে। কান খাড়া করে সবই শুনছে। মা হারা অবুঝ শিশু সন্তানটি এখন তার নিজের বলে গর্ব বোধ করছেন। মারিয়াকে নিয়ে খুশী তার স্বামী ও সন্তানেরা।

গ্রামের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজনও শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছে। তারা তার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন।

খলসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হায়দার আলি বলেন ‘ শিশুটির বাবাকে আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। সে চলে গেছে। এখন শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। আমরাও এতিম শিশুটির দেখভাল করছি’।

একই গ্রামের গৃহবধু শাহানারা খাতুন বলেন,শাহীনুর ও তার ভাইরা ভাল মানুষ। যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। একমাত্র শিশু মারিয়া যেন ভাল থাকে তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে কলারোয়ার নিবার্হী অফিসারও শিশুটির দেখভাল করছেন।
কলারোয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন ‘শিশুটিকে ইউপি সদস্যের হেফাজতে রেখে দেখভাল করছি। তার জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনে দিয়েছি। তার স্বাস্থা সেবারও ব্যবস্থ্য করেছি’।

কলারোয়ার ফোর মার্ডার মামলার তদন্ত ভার নিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন ‘আমরা আইনগত বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি শিশুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তাকে দেখভাল করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে’। শিশুটির দায়িত্ব নিতে পেরে জেলা প্রশাসকও গর্ব বোধ করেছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন ‘শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই আমার মন ভেসে উঠছে চারখুনের নৃশংসতা। শিশুটি যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে আমি সে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। আপাততঃ তাকে কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রেখেছি এবং তার খোঁজখবর নিচ্ছি’।

এদিকে খলসি গ্রামের গৃহকর্তা শাহিনুর তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন দুই শিশু সন্তান সিয়াম হোসেন মাহি ও তাসমিন সুলতানাকে জবাই করে হত্যার পর পুরো বাড়ি জুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। কৌতুহলী মানুষ এখনও আসছে। তারা চোখের পানি ফেলছেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!