রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার জন্মদিনে মৌতলা ইউনিয়ন বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালিত ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকী পালন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন ৫ সেপ্টেম্বর, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯ প্রার্থী চলে গেলেন সাতক্ষীরার সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারাফ হোসেন মশু, দাফন সম্পন্ন কালিগঞ্জে অ স্ত্রে র মুখে জি ম্মি করে কাঠঘর ও শৌচাগারসহ খুপড়ি ঘর বানিয়ে ২৫ শতক জমি দ খ ল সাতক্ষীরার আলিপুর চেকপোস্টে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কৃষকদলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চার নেতা গ্রে ফ তা র 

কলারোয়ায় ফোর মার্ডার: গর্ভধারিনীর কোল হারা শিশু মারিয়া এখন আরেক মায়ের কোলে

রঘুনাথ খাঁ, জেষ্ঠ প্রতিবেদক:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৯২ বার পড়া হয়েছে

গর্ভধারিনী মায়ের কোল হারা চার মাসের শিশু মারিয়া আরেক মায়ের মুখের দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকছে। সে হাসছে , কাঁদছে, আবার সব কথা কোন পেতে বেশ শুনছে।

শুধু সে জাননো সে হারিয়েছে তার জন্মদাতা বাবা ও মাকে। আরও এক ভাই এক বোনকে হারিয়ে সে এখন সর্বস্বহারা।

বৃহস্পতিবার ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলসি গ্রামের একই পরিবারের চার খুন ঘটনার পর শিশু মারিয়াকে ঘাতকরা নিহত মা ও ভাইবোনের পাশে রেখে যায়। সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল শিশুটির দায়িত্ব গ্রহন করছ হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে জিম্মায় দেন।
এরপর থেকে সদস্য নাসিমা খাতুন মায়েরমমতা ও উষ্ণ আদরে তাকে লালন করছেন। তবে মারিয়ার বাবা , মা ও ভাইবোনদের দৃষ্টামূলক শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা।

হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুন বলেন, তিনি শিশুটিকে লালন করার সুযোগ পেয়ে কৃতার্থ হয়েছেন। তার হেফাজতে যতদিন থাকবে ততদিন ধরে আমি তাকে তিল তিল করে গড়ে তুলবো। তিনি ও তার পরিবারের সব সদস্য শিশুটিকে আনায় দারুন খুশী। মারিয়া তার কোলে পিঠে হাসছে, কাঁদছে। কান খাড়া করে সবই শুনছে। মা হারা অবুঝ শিশু সন্তানটি এখন তার নিজের বলে গর্ব বোধ করছেন। মারিয়াকে নিয়ে খুশী তার স্বামী ও সন্তানেরা।

গ্রামের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজনও শিশুটির খোঁজখবর নিচ্ছে। তারা তার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন।

খলসী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হায়দার আলি বলেন ‘ শিশুটির বাবাকে আমি কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। সে চলে গেছে। এখন শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। আমরাও এতিম শিশুটির দেখভাল করছি’।

একই গ্রামের গৃহবধু শাহানারা খাতুন বলেন,শাহীনুর ও তার ভাইরা ভাল মানুষ। যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। একমাত্র শিশু মারিয়া যেন ভাল থাকে তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে কলারোয়ার নিবার্হী অফিসারও শিশুটির দেখভাল করছেন।
কলারোয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন ‘শিশুটিকে ইউপি সদস্যের হেফাজতে রেখে দেখভাল করছি। তার জন্য খাদ্য ও পোশাক কিনে দিয়েছি। তার স্বাস্থা সেবারও ব্যবস্থ্য করেছি’।

কলারোয়ার ফোর মার্ডার মামলার তদন্ত ভার নিয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন ‘আমরা আইনগত বিষয়টি দেখছি। পাশাপাশি শিশুটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি। তাকে দেখভাল করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে’। শিশুটির দায়িত্ব নিতে পেরে জেলা প্রশাসকও গর্ব বোধ করেছেন।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন ‘শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই আমার মন ভেসে উঠছে চারখুনের নৃশংসতা। শিশুটি যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে আমি সে দায়িত্ব গ্রহন করেছি। আপাততঃ তাকে কলারোয়ার হেলাতলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রেখেছি এবং তার খোঁজখবর নিচ্ছি’।

এদিকে খলসি গ্রামের গৃহকর্তা শাহিনুর তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন দুই শিশু সন্তান সিয়াম হোসেন মাহি ও তাসমিন সুলতানাকে জবাই করে হত্যার পর পুরো বাড়ি জুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। কৌতুহলী মানুষ এখনও আসছে। তারা চোখের পানি ফেলছেন।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!