
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় নদীভাঙনে প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে গেছে। খোলপেটুয়া নদীর তীব্র জোয়ার ও প্রবল স্রোতের টানে ধসে পড়েছে বাঁধটির এই বৃহৎ অংশ। এতে করে আশপাশের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সোমবার নদীবেষ্টিত অঞ্চলটিতে জোয়ারের তীব্রতা বাড়লে মুহূর্তেই বাঁধের একটি অংশ ধসে নদীগর্ভে চলে যায়। ঘটনার পর থেকেই গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বস্তায় মাটি ভরে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী দাউদ আলী জানান, কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশের প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাাউবো) অবহিত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় ছিল। জোয়ার এলেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেয়। এবার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে নদীতে বয়ে আসা লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকার মিষ্টি ও লোনা পানির মৎস্যঘেরগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া বলেন, জোয়ারের চাপে ওই পয়েন্টে ধস নেমেছে। সেখানে বস্তা ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি জিও টিউব ব্যবহার করে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজ শিগগিরই শুরু করা হচ্ছে।
প্রতাপনগরসহ আশপাশের এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি এখন ওই অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের। দুর্যোগ এড়াতে সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সংস্কার চান তারা।