মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় সরকারিভাবে আম সংগ্রহের উদ্বোধন মুকসুদপুরের জলিরপাড়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের  তালায় নাগরিক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নবাগত ইউএনওসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এমপি ইজ্জত উল্লাহর মতবিনিময় সভা সাতক্ষীরায় দু র্নী তি প্র তি রো ধে করণীয় শীর্ষক” প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ সাতক্ষীরায় এসিড আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক বার্ন ইউনিট দাবি সাতক্ষীরায় পুলিশ কনস্টেবল পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা শুরু পুরুষের সমান কাজ করেও অর্ধেক মজুরি মেলে সাতক্ষীরার উপকূলের নারী শ্রমিকদের অবশেষে শ্যামনগরের অ প হৃ ত পশু চিকিৎসক অনিমেষ পরমান্যের মু ক্তি, আ ট ক -৩

তালায় বিলুপ্তির পথে ঘানি শিল্প

✍️গাজী জাহিদুর রহমান 📝নিজস্ব প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার তালায় আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘানি শিল্প। স্বল্প ব্যয়ে কম খরচে বাড়িতে তৈরী করা হতো খাঁটি সরিষার তৈল। বর্তমান প্রযুক্তির কাছে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় এ শিল্প এখন বিলুপ্ত প্রায়।

গ্রাম বাংলার সেই শিল্প এখন আর তেমন দেখা যায় না। উপজেলায় হাতে গোনা দু-একটা গ্রামে এ শিল্প টিকে আছে। তাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ শিল্প রহস্য বলে মনে হয়। এখন আর ঘানিতে ঘুরান খাঁটি সরিষার তৈল পাওয়া অনেকটা কষ্টসাধ্য। ঘূর্ণনযন্ত্র দ্বারা ঘানিতে গরুর সাহায্যে এ সরিষা জাতীয় তৈল বীজ থেকে বের করা হয় তেল। ঘানি টানার জন্য গরুকে চোখ বেধে টানানো হয়। যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন তৈলবীজকে নিষ্পেষণ করে তেল বের করা হয় তাকে ঘানি বলে। তৈল নিষ্পেষণ একটি প্রাচীন জীবিকা এই পেশার লোকদেরকে কলু বলা হয়। ঘানি টানা খুব পরিশ্রমের কাজ তাই আগেকার দিনে কারাদন্ডপ্রাপ্ত লোকদের দিয়ে ঘানি ঘোরানো হতো।

উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার সংলগ্ন দাই পাড়াতে পুরান ঐতিহ্য ঘানি শিল্পটি কোনরকম টিকে আছে। সেখানে গিয়ে কথা হয় বিদেশ প্রবাসী ইয়াছিন সরদারের পুত্র অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ সরদারের সাথে। সে জানায়, আমার দাদাদের আমলের এ শিল্প প্রায় বিলিন হওয়ার পথে কোন রকমে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন এ ঘানি আঠারাে মাইল বেতা গ্রাম আমার নানা আহম্মদ আলী গাজী ও পাটকেলঘাটায় আমাদের এছাড়া এলাকায় কোন ঘানি নাই।

এ শিল্পে লোকবল কম লাগে, কম খরচে প্রাচীন আমলের সেই ঘানির মাধ্যমে খাঁটি তেল বের করা হয়। প্রতিদিন ঘানিতে ৪ থেকে ৬ কেজি তেল বের করা হয়। তেলের চাহিদা অনেক চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। প্রতি কেজি তেল ৪শ’ টাকায় বিক্রি করা হয়। অথচ মেশিনের তেল বিকিও হয় কেজি প্রতি ১৮০ টাকা। খাঁটি সরিষার তেল নিতে দূর দুরান্ত থেকে লোক আমাদের এখানে আসে।

তালা উপজেলার তৈলকুপি গ্রামের রাধাপদ সাধু জানায়, ঠাকুর দাদারা ঘানির সাথে যুক্ত থেকে অনেক কিছু করেছে। আমাদের কাছে ঘানি এখন রূপকথার মতো।

পাটকেলঘাটা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কালাম গাজী জানান, অনেক আগে থেকেই আমরা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছি। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারের সাথে এ শিল্প টিকে থাকতে পারেনা। তাছাড়া এ পেশা লাভজনক না, বর্তমানে আমরা ব্যবসা বাণিজ্য করে ভাল আছি।

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, যেহেতু গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাথে জড়িত ঘানি শিল্প। সেহেতু এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!