বিশেষ ও ফিচার

অগ্রগতি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিমুর রহমানকে স্মরণ, ৩২ বছরের পথচলার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

দেশ টাইমস-
দেশ টাইমস- বিশেষ ও ফিচার ডেস্ক
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফলো করুন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ আমাদের মেসেঞ্জার

সাতক্ষীরায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অগ্রগতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নিবেদিতপ্রাণ ও সৎ-নিষ্ঠাবান সংগঠক মো. সেলিমুর রহমানের স্মরণে এক নাগরিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর কর্ম, আদর্শ, ত্যাগ এবং মানবিক অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হন বক্তারা। তাঁদের মতে, সেলিমুর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষের অবদান শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় সাতক্ষীরার ত্রিশমাইলস্থ অগ্রগতি রিসোর্টে অগ্রগতি সংস্থার উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সংস্থার সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং মরহুমের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, অগ্রগতি সংস্থার ফিন্যান্স কো-অর্ডিনেটর মো. ফিরোজ হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম খোকন, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুভাস সরকার, সিনিয়র সাংবাদিক ও দ্য ডেইলি স্টারের নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, অধ্যাপক আবদুল হামিদ, মেজর ইসহাক আলী এবং লাবসা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য টুটুল মোস্তফাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

সভাপতির বক্তব্যে আব্দুস সবুর বিশ্বাস মরহুম সেলিমুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মময় পথচলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালে যখন আমি একেবারে শূন্য হাতে সাতক্ষীরায় আসি, তখন থেকেই সেলিমুর রহমান আমার সঙ্গে ছিলেন। আমাদের দুজনের ওপর দিয়ে কত বিপদ গেছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু তিনি কখনো কোনো বিপদকে বিপদ মনে করেননি। স্বার্থ, সম্মান কিংবা পারস্পরিক সম্পর্ক—কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র ত্রুটি বা হিংসা দেখিনি।”

তিনি আরও বলেন, “৩২ বছরের পথচলায় অগ্রগতি সংস্থায় আমার চেয়ে সেলিমের দায়িত্ব ও অবদান কোনো অংশেই কম ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি ছিল। যখন আমার পাশে কেউ ছিল না, এমনকি নিকটাত্মীয়রাও খোঁজ নিতেন না, তখন একমাত্র সেলিমুর রহমানই আমার খোঁজ নিতেন। দীর্ঘ ৩২ বছরে তিনি আমার পাশ থেকে এক পা-ও সরে দাঁড়াননি। তাঁর অবদানেই আজ অগ্রগতি সংস্থা এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।”

বক্তারা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দীর্ঘদিন ধরে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পেছনে যাঁদের নীরব শ্রম, সততা ও নিষ্ঠা থাকে, তাঁদের অবদান অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। মো. সেলিমুর রহমান ছিলেন তেমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও সহকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁরা মরহুমের কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁর আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখার আহ্বান জানান।

স্মরণসভা শেষে মরহুম মো. সেলিমুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে আবেগঘন পরিবেশে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘটে।

প্রকাশের আগে একটি বিষয় যাচাই করবেন: আপনার দেওয়া তথ্যে ৭ নভেম্বরকে শনিবার বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর শনিবার—তারিখ ও বার ঠিক আছে।