
বরেণ্য কবি বেগম সুফিয়া কামালের ১১১তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখা সাতক্ষীরা শহরের আমতলাস্থ তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
জেলা মহিলা পরিষদের সহ সভাপতি শামীমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বক্তব্য রাখেন, পৌর কাউন্সিলর নুরজাহান,মহিলা পরিষদের সহ-সভানেত্রী সালেকা হক কেয়া, কোষাধ্যক্ষ হাফিজা খাতুন, রুপা মিত্র , সোনিয়া সুলতানা সুইটি প্রমুখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে কবি সুফিয়া কামালের বর্ণাঢ্য জীবনী তুলে ধরে বলেন, কবি সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাাবাদ নবাব পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশীর্বাদ ধণ্য বেগম সুফিয়াকামাল ছিলেন কবি, সংগঠক, নারী মুক্তি আন্দোলনের যোদ্ধা এবং সকলের প্রিয় খালাম্মা।
নারী মুক্তির আদর্শ কবি সুফিয়া কামালের কাব্য রচনা তাঁকে পরিচিতি দিয়েছিলো, কিন্তু মানুষকে তিনি আকর্ষণ করেছিলেন তার আদর্শ, কর্ম, মানবতাবোধ আর দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ দিয়ে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণআন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে তিনি যেমন ছিলেন সক্রিয় তেমনি যুদ্ধপরবর্তি দেশ গঠনে তার ভূমিকা ছিলো অণবদ্য। সুফিয়া কামাল, তাঁর পরিচয় শুধু কবি নয় শুধু নারী আন্দোলনের নেত্রী নয়, তিনি ছিলেন জাতীয় জীবনে সকল প্রগতিশীল লড়াই সংগ্রামের অকুতোভয় নেত্রী।
সুফিয়া কামাল বেড়ে উঠেছেন কন্যা সন্তান হিসেবেই, নারী হিসেবে মুখোমুখি হয়েছেন সকল বৈষম্যের, পারিবারিক জীবনেও সহ্য করেছেন নানাবিধ বিচ্ছেদ বেদনা, কিন্তু তাই বলে মানুষ হিসেবে কখনোই ভুলে যাননি তার দায়বদ্ধতা। নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বা সংগঠক হবার জন্য পিতৃতান্ত্রিক এই সমাজে ‘নারী’ পরিচয়কে প্রতিবন্ধক হিসেবে গ্রহণ করেননি বরং শক্তি হিসেবে প্রকাশ করেছেন।
তিনি নারী হিসেবে শুধু ‘মা’ এর ভূমিকা পালন করেননি, নারী সমাজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে নিজের আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সংগঠক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন “বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ” সহ বিভিন্ন ধরনের সংগঠন যেমন, গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি, বেগম ক্লাব, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী, ছায়ানট, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইত্যাদি ।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তাঁর শিক্ষা তাঁকে ধর্মীয় গোড়ামি, ধর্মান্ধতা, স্বৈর ও সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার করেছিলো । নারীমুক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েননি তিনি, কিন্তু কখনোই নারীর সমঅধিকার প্রশ্নে আপোষ করেননি ।
তাই ২০ শে নভেম্বর ১৯৯৯ সালে বাঙালি জাতি হারায় মানবমুক্তি এবং নারী মুক্তি আন্দোলনের এই মহিয়সী নারীকে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জ্যোস্না দত্ত।