উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
📝মোঃ হাফিজুর রহমান✍️নিজস্ব প্রতিবেদক✅
প্রকাশের সময় :
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
৩০
বার পড়া হয়েছে
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ‘১০ লক্ষ বীজ রোপণ’ কর্মসূচি।
বাংলাদেশ সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ‘২৬) সকাল ১০টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সামনে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বারসিক, সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন এবং উপজেলার ১২৮টি সংগঠিত জনসংগঠন ও ২৫টি যুব সংগঠনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ শামসুজ্জাহান কণক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী প্রতিনিধি অনন্যা রাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক, কৃষক, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি ও বীজ সহায়তাকারীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ শামসুজ্জাহান কণক বলেন, “সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।” পরে তিনি স্থানীয় প্রজাতির বিভিন্ন বীজ এবং একটি বটগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লক্ষ বীজ রোপণের উদ্যোগ পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু অভিযোজনের একটি কার্যকর পদক্ষেপ।
বীজ সহায়তাকারী রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, দেশীয় প্রজাতির বীজ সফলভাবে রোপণ করা গেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো উপকূলীয় অঞ্চল সবুজে আচ্ছাদিত হবে। এতে শুধু বৃক্ষই নয়, পাখি ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন আবাসস্থল সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আষফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল, অর্জুনসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির প্রায় ৭ লক্ষ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ১০ লক্ষ বীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “আজকের একটি বীজই আগামী দিনের একটি শক্তিশালী বৃক্ষ। একটি বৃক্ষ শুধু সবুজের প্রতীক নয়; এটি কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, মাটি ও নদীতীর রক্ষা করে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।”
বক্তারা আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, যুবসমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও পরিবেশপ্রেমী সকলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের মতে, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শ্যামনগর উপকূলের সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে এটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।