
এএলআরডি ঢাকা এর সহযোগীতায় উন্নয়ন সংগঠন স্বদেশ সহ সমমনা নেটওয়ার্য়াক সদস্য সংগঠনের আয়োজনে শনিবার (২৪ জানুয়ারি ‘২৬) সকালে সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরীতে “বেতনা নদী সুরক্ষায় নাগরিক উদ্যোগ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব” বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বদেশ সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তর এর সঞ্চালনায় ও শিক্ষাবিদ আঃ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পানিউন্নয়ন বোডের নাগরিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা এর কোষাধ্যক্ষ মোঃ আমিনুর রসুল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোড-২ এর সাব এসিচেন্ট ইন্জিনিয়ার মোঃ আশিকুর রহমান। অতিথি বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন কর্মি আশেক-ই এলাহি, জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক এড.আজাদ হোসেন বেলাল, বাপা সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বেতনা নদী সহ সাতক্ষীরা জেলার বড় নদী ও সংযোগ খাল সমুহের প্রবাহ নিশ্চিত করতে নদী দখল মুক্ত করারা আহবান জানান। তিনি বলেন অভিন্ন নদীগুলির প্রবাহ ঠিক রাখতে দ্বীপাক্ষিক ফলপ্রসু আলোচনা ও সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যদি আমাদের সকল নদী তার স্বাভাবিক স্বত্বা নিয়ে চলতে না পারে তা হলে তা সুরক্ষা ওদেওয়া কঠিন হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানুষসৃষ্ট জটিলতা নদীর জীবনী স্বত্বাকে সংকটময় করে তুলেছে, সেটার জন্যে প্রয়োজনে বহুপাক্ষিীক আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করা যেতে পারে। তিনি সাতক্ষীরার বেতনা নদী বাঁচাতে অববাহিকায় বেসবাসকারি নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওযার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। এবিষয়ে জনসচেতনতার পাশাপাশি নদী শুনানী, নদী আদালত ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ওয়াদা কামনা করেন।
তিনি বলেন, নদীকেন্দ্রীক যে জীবন ব্যবস্থা, কৃষি, বানিজ্য, নৌ পরিবহন ও সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে সেটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। বেতনা সহ সকল বড় নদীকে শাসন করতে যে স্লুইস গেট দেওয়া হয়েছিল তা অনেকগুলি কার্যকারিতা হারিয়েছে যা অপসারন জরুরী। তিনি সহ বক্তারা সাতক্ষীরা জেলার নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে সকল নদী ও সংযোগ খাল উন্মুক্ত রাখা ও অপরিকল্পিত চিংড়চাষ বন্ধ করতে পরামর্শ দেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, আলী নুর খান বাবুল, আঃ সামাদ, মফিজুর রহমান, কওসার আলী, মৃনাল সরকার, জ্যোস্না দত্ত, মধুসুদন মন্ডল, রুবেল হাসান,লুইস রানা গাইন, এম কামরুজ্জামান এবং মাধব চন্দ্র দত্ত লিখিত আলোচনাপত্র পাঠ করেন, সিডো পরিচালক শ্যামল বিশ্বাস।
আলোচনাসভা থেকে গৃহিত সুপারিশমালা:-
আধুনিক পদ্ধতিতে (ড্রেজিং) নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন; প্রতি ৫ বছরে পুনরায় খনন নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে দখলমুক্ত উদ্যোগ নিতে হবে।
পানি প্রবাহের স্বাভাবিকতা ফেরাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন দরকার।
নদী ও খাল ব্যবস্থায় মিঠাপানি চলাচল নিশ্চিত করা।
স্থানীয় জনগণ, এনজিও, ইউনিয়ন পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি “বেতনা নদী সংরক্ষণ কমিটি গঠন।
নদীর তীরে বাঁধ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মসূচি।
নদী রক্ষা আইন ২০১৩ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কার্যকর প্রয়োগ।
স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান (যেমন জাহাঙ্গীরনগর বা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়) দিয়ে বেতনা নদীর জলপ্রবাহ ও গঠন পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করানো।