
একটা বয়সের পর
একটা বয়সের পর,
ভালোবাসা মানে চিঠির মলাট ছেঁড়া শব্দ নয়,
হাতের তালুতে লেখা নামের আদ্যক্ষর নয়,
ভালোবাসা মানে হয়ে যায়—
একটা লম্বা নিঃশ্বাস,
এক কাপ নীরব চা,
একটা চুলে জড়ানো আঙুলের ছোঁয়া!একটা বয়সের পর,
সম্পর্ক মানে আর ফুলের গন্ধ থাকে না,
থাকে গ্যাসের চুলায় চাপানো হাঁড়ির শব্দ,
দরজার ওপাশে অপেক্ষার ছায়া,
রাতবিরেতে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া অভ্যাস!তখন আর “ভালোবাসি” বলা লাগে না,
যখন ফোনের ওপাশ থেকে বলা হয়,
“বৃষ্টি হচ্ছে, ছাতা নিয়েছ তো?”
অথবা—
“রাস্তাটা ফাঁকা, একটু সাবধানে চলো!”একটা বয়সের পর,
ঝগড়ার মানে আর অভিমানের নাটক থাকে না,
থাকে ভাতের হাঁড়িতে চামচের বাড়ি,
থাকে নিরবতা, থাকে অপেক্ষা,
আর থাকে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারা চোখ!একটা বয়সের পর,
রোমাঞ্চের মানে আর
হাত ধরাধরি করে শহর দৌড়ানো নয়,
বরং দুপুরের আলসেমিতে
একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে
একসাথে একটা বই পড়া!একটা বয়সের পর,
নতুন প্রেম আসে না,
পুরনো মানুষটাই হয়ে ওঠে
নতুন এক পৃথিবী—
যার আলো, যার ছায়া,
যার ধুলোবালির মধ্যেই
একটা জীবন ঘুরে বেড়ায়!একটা বয়সের পর,
আইনের চুক্তিতে পাওয়া মানুষকে
কেমন যেন পর পর বলে মনে হয়,
চুক্তিহীন স্বার্থহীন ভিন্ন মানুষটাকে
খোঁজ করতে করতে ক্লান্ত হয় মন!একটা বয়সের পর,
ভালোবাসা মানে শুধু এতটুকুই—
“তুমি আছো বলেই আমি আছি!”