
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তালা উপজেলায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষীরা। একসময় উপজেলার সর্বত্রই মাঠের পর মাঠ আখ চাষ হতো। কৃষকের অতীত ঐতিহ্যের ধারক বাহক হিসেবে এলাকার চাষীরা আখ চাষে বেশ সফলতা অর্জন করতো। কৃষকের নায্য দাম আর অনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণে তালায় আখ চাষ বিলুপ্ত প্রায়। শীতের মৌসুমের শুরুতেই আখ মাড়াই শুরু হয়ে যেত। গ্রামের মাঠ গুলোতে যেন আখ মাড়াইয়ের হিড়িক পড়ে যেত। চাষীরা আখ মাড়াই করে রস জালিয়ে গুড় পাটালী তৈরী করত। এখন সেটা কদাচিত দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারে একপিচ আখের মুল্য ৫০-৬০ টাকা।
উপজেলার জুজখোলা গ্রামের আব্দুল আলিম মোড়ল জানান, আখ চাষ করে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে লাভ না থাকায় আখচাষে আগ্রহ হয় না।
খলিষখালী গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, আখ চাষ কান্ড পচা ও মাজরা রোগের কারনে কৃষকরা এখন আর আখ চাষ করতে চায় না। সরকারীভাবে যদি কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করানো হয় তাহলে আবারো কৃষক আখ চাষে ফিরে আসতো। আখ চাষে একদিকে পরিবারের সারা বছরের জ্বালানী ও মিষ্টির চাহিদা মেটাত। আরেক আখচাষী কওছার আলী জানান, আখচাষে অধিক পোকার আক্রমণ, বছরে এক ফসলী, মাড়াই কলের অভাব ও অন্য ফসলের চাইতে অলাভজনক হওয়াতে অত্র উপজেলার কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। এরপরও আমি দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। মাড়াই না করা পর্যন্ত লাভ লোকসান বোঝা যাবে না।
আখচাষী সেলিম সরদার ইসলাম জানান, আখচাষ তেমন না হলেও গতকয়েক বছর সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত অমৃত ৪১ ও অমৃত ৪২ জাতের আখ চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। এক বিঘা জমিতে আখচাষ করে তিনি প্রায় এক লক্ষ টাকার কাাঁচা আখ বিক্রি করেছেন।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, আখ চাষ এক বছর মেয়াদি হওয়ায় চাষিরা আগ্রহ হারাচ্ছেন আখ চাষে। অত্র উপজেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। যেখানে একই জমিতে বছরে তিনটি ফসল করতে পারে সেখানে এক বছর মেয়াদি আখ চাষ করতে চাচ্ছেন না কৃষকরা। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা রোগের প্রতিকারের জন্য কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।