
গাজীপুরের কালিগঞ্জ একটি কৃষক পরিবারের শত বছরের ৬৯০ শতাংশ পৈত্তিক সম্পত্তি জোরপূর্বক জবর দখল করে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। শুধু জমি দখলই নয়, জমিতে থাকা গাছপালা কেটে ও ফসলি জমি নষ্ট করে ওই পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকী দিচ্ছে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় পরিবারের সদস্যরা থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর মিডিয়া সেন্টার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে জমি দখল প্রতিরোধ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে কালিগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের মোঃ আলাউদ্দিন দর্জি জানান, কালীগঞ্জ থানার জাঙ্গালিয়া মৌজায় ভাওয়াল রাজার নিকট থেকে পাট্টা দলিল মূলে ও সিএস মালিকের নিকট থেকে ক্রয়সূত্রে তার দাদা মরহুম খায়াজ দরজি সিএস-১৭,৩৪,৫৬ ও ৭৭ নং খতিয়ানে ৬৯০ শতাংশ জমির মালিকানা লাভ করেন। তিনি ভোগদখলে অবস্থায় প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিলে ওই সমূদ্বয় সম্পত্তি আমার পিতা মরহুম সামসুদ্দিন দরজির নামে এস.এ ও আর.এস রেকর্ডভূক্ত হয়। আমার পিতা মৃত্যুবরন করলে তার সকল সম্পত্তি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে আমরা ৪ ভাই নামজারি ও জমাভোগ করাইয়া হাল সনের খাজনা পরিশোধ করিয়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করিয়া আসিতেছি।
কিন্তু সম্প্রতি আমাদের ভোগদখলীয় শত বছরের পুরনো পৈত্তিক সম্পত্তিতে হাল চাষ করতে গেলে উক্ত এলাকার মেহেদী, বাদল মোল্লা, জামান মোল্লা, রবিউল, আজিজুল গংরা একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্র ছায়ায় ওই জমিতে তাদের অংশ রয়েছে দাবী করে জমি চাষে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা ওই জমি জবর দখলের পায়তারা শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মীমাংসা করতে চাইলে জমি দাবী করা লোকজন তাদের স্বপক্ষে কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এ ঘটনায় আলাউদ্দিন আইনের আশ্রয় নিলে আদালত ওই জমিতে ১৪৫ ধারা জারি করে। কিন্তু আদালতের আদেশকে অমান্য করে গত ২৯ জানুয়ারী প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মেহেদীগংরা সংঘবদ্ধ হয় দা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সস্ত্রাসী হামলা করে জমিতে থাকা বেশ কিছু ফলের গাছ কেটে ফল এবং জমির ফসল নষ্ট করে। এসময় তারা ওই কৃষক পরিবারটিকে মামলা, খুন জখমসহ নানা ধরনের হয়রানীর হুমকী প্রদান করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।