রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত  শ্যামনগরে ২০ লাখ টাকা মু ক্তি প ণে র দাবিতে অনিমেষ পরমান্য নামের এক পশু চিকিৎসককে অ প হ র ণ বাস্তুহারা দলের তালা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন: লিটন আহবায়ক, মফিজুল সদস্য সচিব গাবুরায় সড়কের ওপর ঘেরের মাটি: চার হাজার মানুষের চলাচলের পথ এখন ‘খাল’ সাতক্ষীরা ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাণসায়ের খাল রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হলেন দেবহাটার সজল নবজীবনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ সারাদেশের কা রা ব ন্দি সাংবাদিকদের মু ক্তি র দা বি তে সাতক্ষীরায় অ ব স্থা ন কর্মসূচি তালায় ১৫ বছর ধরে শি ক ল ব ন্দী মিতুর হৃদয় বিদারক জীবনযুদ্ধ! জমকালো আয়োজনে শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে সাতক্ষীরায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস’র উদ্বোধন

তালায় ১৫ বছর ধরে শি ক ল ব ন্দী মিতুর হৃদয় বিদারক জীবনযুদ্ধ!

✍️গাজী জাহিদুর রহমান 📝নিজস্ব প্রতিবেদক✅
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামে প্রায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী মিতু খাতুন (২৪) নামের এক তরুণী। দীর্ঘ বছর ধরে সে পায়ে শিকল ও বেড়ি দেয়া অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। সে প্রসাদপুর গ্রামের মৃত আবুল মোড়লের কন্যা। প্রায় ৮ বছর আগে মিতুর বাবা মারা যান। অসহায় মিতুকে এ জীবন থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন এলাকাবাসী। এদিকে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান ইতিমধ্যে মিতুর বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল মিতু খাতুন। পরিস্থিতির কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়। সময়ের সাথে এই শিকলই হয়ে উঠেছে তার জীবনের নির্মম বাস্তবতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজির মতো, যা তার চলাফেরাকে কষ্টদায়ক করে তুলেছে।

মিতুর মা হাসিনা বেগম জানান, মেয়েটি প্রায়ই এদিক-সেদিক চলে যায় এই আশঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভাবের কারণে মেয়ের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে উন্নত চিকিৎসা পেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রায় ৮ বছর আগে মিতুর বাবা মারা গেছে। বর্তমানে তিনি মিতুকে দেখাশোনা করছেন। মিতুসহ তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ছেলে ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে পুরো পরিবারের খরচ চালায় সে। টাকার অভাবে মিতুর উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন জানান, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন,“আপনাদের মাধ্যমে মিতুর ঘটনাটি জানতে পেরেছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান জানান, ইতিমধ্যে মিতুর বাড়িতে যাওয়া হয়েছে। তাদের কিছু খাদ্যের সহায়তা করা হয়েছে। অন্যান্য সহযোগিতা করার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ^াস দিয়েছেন তিনি।

সংবাদ টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!