
শেষ ধুলোর পথ
সময়ের সাথে বয়স বাড়ছে,
আর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতর—
একটা কিছু খসে পড়ে প্রতিদিন,
অদৃশ্য পাখির পালকের মতো
শূন্যে ভাসে কোথাও হারিয়ে যায়।সন্ধ্যার ট্রেন জানালায় চোখ রেখে
আমি দেখি আরেকটি মুখ—
আমারই বয়সী,
তার চোখেও জমে থাকা পথের ধুলো,
হয়ত তার বাড়িতে
একটা টেবিল ঘিরে বসে আছে
প্রতীক্ষার মানুষগুলো,
একটা শীতল থালা,
কিছু কথা বলা হয়নি আজও।আমি ফিরে আসি—
গেটের তালা খুলতে গিয়ে আঙুল আটকে যায়,
একটা ডিম পড়ে যায় নিঃশব্দে,
স্মৃতির মতো ভেঙে পড়ে,
একটু কুসুম, একটু শাদা—
বিলীন হয়ে যায় মেঝের উপর।তবু বুকের গোপন নোটবুকে
নিমন্ত্রণ গুনে দেখি—
কেউ আসেনি, তবু অপেক্ষা থেকে গেছে।
কেউ একবারও ফিরে তাকায়নি,
তবু ধুলোর পথ তবু মুছে যায়নি।একটা মানুষ পুরোপুরি গেলে
তার সঙ্গে মরে যায় কত শত মুখ,
কত শত পদচিহ্ন,
একটা ছেঁড়া নোটবুকের
শেষ পাতায় লিখে রাখা
শেষ অক্ষরটুকু।আর আমি?
আমি শুধু রাতের অসংখ্য ফল চিবোতে চিবোতে
চোখ বুজে অনুভব করি—
একটা অদৃশ্য ট্রেন দূরে হারিয়ে যায়,
আর বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ
আরেকটু ক্ষীণ হয়ে আসে।কোর্ট স্টেশন
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫