
ভালোবাসার সংজ্ঞা, এর আওতা ও পরিধি, এর আইন-কানুন, বিধি-বিধান—এসব মানুষ জানুক বা না-ই জানুক, তবুও ভালোবাসে। বর্ষায় হোক, হেমন্তে হোক কিংবা বসন্তে—হৃদয়ে প্রেম আসে, মানুষ প্রেমে পড়ে। তখন প্রতিটি হৃদয় প্রেমিক হয়ে ওঠে, প্রতিটি আত্মা কবিতার সুর বাঁধে। কেউ হয়তো শব্দের ঝরনা বইয়ে দিতে পারে, কেউ পারে না, কিন্তু অনুভূতি সেই একই থাকে—জগৎ যেন অপার আনন্দময় এক নন্দনকানন, যেখানে শব্দ হয়ে ওঠে ঝরনার কলধ্বনি, বর্ণ হয়ে ওঠে ইন্দ্রধনু, আর অস্তিত্ব ভরে যায় পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায়।
প্রতিটি প্রেমিক তখন হয়ে যায় একেকজন অষ্টম এডওয়ার্ড। আমিও হয়েছিলাম তেমনই। যখন ভালোবাসার দরজায় কড়া নাড়ে, কবিরা হয়ে যান চণ্ডীদাস। তারা প্রিয়ার এক গুচ্ছ চুলের জন্য গোটা পারস্য সাম্রাজ্য বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকেন। হাত ছুঁয়ে নয়, তারা প্রিয়ার খোঁপায় আকাশ ছোঁয়া তারার মালা খুঁজে দেন। অসময়ে উদিত হওয়ার জন্য সূর্যকে ধমক দেন। দিনরাত অপেক্ষার সাগরে ভাসেন, জনম থেকে জনমে অভিসারের স্বপ্ন দেখেন। এমনকি প্রেমিকরা এতটাই অপ্রকৃত হয়ে পড়েন যে, প্রিয়ার চটি স্যান্ডেল বানাতে তামা বা রূপা নয়, একেবারে সোনার কারুকার্যে মনোনিবেশ করেন।
প্রিয়তমার কপালের বর্ণনায় ৩৫ বছর, চোখের জন্য ৪০০ বছর, হাসির জন্য ৭৫০ বছর, আর অবশিষ্ট দেহের সৌন্দর্যের ব্যাখ্যায় ৩০ হাজার বছর ব্যয় করতে তারা কাতর হন। কিন্তু হায়! সে সময় কোথায়? কালের রথ এগিয়ে আসে, মুহূর্তগুলো হারিয়ে যায় মহাকালের অতল গর্ভে।
এই পথ, যেখানে দাঁড়িয়ে আমি ২০২৫ সালের সূর্যোদয় দেখলাম, এই পথেই ২০০৭ থেকে ২০১৪—টানা আট বছর, প্রতিটি ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই রাস্তাটায় আসতাম, গন্তব্যহীন এই রাস্তায় হেঁটেছি, ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে পথ চেয়েছি। কিন্তু আজ, মহাকালের গহ্বরে বৃষ্টি যেমন জল শুষে নেয়, তেমনি সেই মুহূর্তও হারিয়ে গেছে। ১১ বছর কেটে গেছে অথচ পথটা আজও একই আছে, শুধু সময় বদলেছে।
জীবন সেখানে যেমন ছিল, তেমনই আছে। সময় তার নিজের পথে চলে, স্মৃতি রেখে যায়, ভালোবাসা বেঁচে থাকে। তাই, হে অপ্রেমিক ও অকবি, সময় নষ্ট করো না—ভালোবাসো, ভালোবাসো, শুধুই ভালোবাসো।
বেঁচে থাকুক সকল ভালোবাসা।
কবি তানভীর আহমেদ, প্রেম রোড, ০৭:৩০, ১৪/০২/২৫